প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাসে চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে : তথ্যমন্ত্রী

ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস এবং বিশেষ সুবিধা বর্জনের ফলে একদিকে যেমন জনগণের অর্থের সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে সুশাসন নিশ্চিত করার পথে দেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান |ইন্টারনেট

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিভিআইপি প্রটোকল বহর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। তার অতি সাধারণ চলাফেরার কারণে রাজধানীসহ দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন ও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে আগে যে ধরনের বিশাল প্রটোকল বহর থাকত, তা এখন খুবই সংক্ষিপ্ত। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানানো বা অভ্যর্থনা জানানোর দীর্ঘদিনের প্রচলিত আতিশয্য ও কড়াকড়ি সীমিত করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমানবন্দরে এখন থেকে কেবল একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব উপস্থিত থাকবেন। এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষও এখন ট্রাফিক আইন মেনে চলতে আগের চেয়ে বেশি উৎসাহিত হচ্ছে।

সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমরা আর কখনোই শুল্কমুক্ত (ট্যাক্স ফ্রি) গাড়ি নেব না এবং কোনো সরকারি প্লটও গ্রহণ করব না। জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে এমপিদের এই বিশেষ সুবিধাগুলো বাতিল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারি দলের পাশাপাশি অন্যান্য দলের সংসদ সদস্যরাও এই ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের পাশে দাঁড়াবেন।

প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং শনিবারও নিয়মিত অফিস করছেন। তার এই কঠোর পরিশ্রমের ফলে পুরো প্রশাসনে একটি নতুন কাজের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যখন রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী নিজেই একজন আদর্শ ‘রোল মডেল’ হয়ে ওঠেন, তখন পুরো সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গতিশীলতা চলে আসে।’

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এই সংস্কারগুলোর কারণে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমবে, জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপিত হবে। ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস এবং বিশেষ সুবিধা বর্জনের ফলে একদিকে যেমন জনগণের অর্থের সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে সুশাসন নিশ্চিত করার পথে দেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

সূত্র : বাসস