মালদ্বীপের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

মালদ্বীপের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (এমএনইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ড. আইশাথ শেহনাজ আদামের সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নজমুল ইসলাম।

ওমর ফারুক, মালদ্বীপ
মালদ্বীপের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
মালদ্বীপের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ |নয়া দিগন্ত

মালদ্বীপের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (এমএনইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ড. আইশাথ শেহনাজ আদামের সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নজমুল ইসলাম।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দেশটির জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যন্ত আন্তরিক ও গঠনমূলক পরিবেশে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ হাইকমিশন।

এ সময় (এমএনইউ)-এর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট ও অ্যাকাডেমিক বিভাগের প্রধানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।এতে বাংলাদেশের সাথে অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা বাড়াতে এমএনইউ-এর আগ্রহ স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

আলোচনায় হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নজমুল ইসলাম (এমএনইউ) ও বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওউ) স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি),বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইতিবাচক আলোচনা ও যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন।

হাইকমিশনার সংশ্লিষ্ট সকল সমঝোতা স্মারক প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে তার ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে বলে আশ্বস্ত করেন।উভয় পক্ষই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে অগ্রগতির বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

ভিসির (এমএনইউ) পক্ষ থেকে বাংলাদেশ থেকে স্বল্পমেয়াদি অতিথি শিক্ষক আমন্ত্রণ, বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং যৌথ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি জানান যে, এমএনইউ-এর আওতাভুক্ত ২১টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় যৌথ সেমিনার, সম্মেলন ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরো জানান, প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো বোঝার লক্ষ্যে এমএনইউ বিভিন্ন গবেষণা ও সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে এবং দেখা গেছে যে অনেক প্রবাসী সহায়তার পথ সম্পর্কে অবগত নন। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।একইসাথে মালদ্বীপের পর্যটন খাতের প্রয়োজন বিবেচনায় (এমএনইউ)-বাংলা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়াও এমএনইউ’তে বর্তমানে বাংলাদেশি পেশাজীবীরা কর্মরত আছেন এবং ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণের আগ্রহও প্রকাশ করা হয়।

প্রতুত্তরে হাইকমিশনার এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনের সমন্বয়ে ভবিষ্যতে এমএনইউ ও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ সেমিনার, আন্তর্জাতিক সম্মেলন, দ্বিপাক্ষিক গবেষণা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় এবং এক্সপোজার প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের চাহিদা, স্বাস্থ্য, কল্যাণ এবং মালদ্বীপীয় সমাজে তাদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এ ক্ষেত্রে এমএনইউ ও বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণায় বাংলাদেশ হাইকমিশন পূর্ণ সহায়তা প্রদান করবে বলে হাইকমিশনার আশ্বস্ত করেন।

বৈঠক শেষে উভয়ে আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে।