প্যারিসে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ছিল এই স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য।

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, প্যারিস (ফ্রান্স)
‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা
‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশী নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের উদ্যোগে প্যারিসে ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের গার দু নর এলাকায় একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ ইব্রাহীম ভুইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি ফ্রান্স ডায়াসপোরার যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ার পাটোয়ারী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক পরিষদের নির্বাহী সদস্য তানভির ওয়াদুদ, সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী জাকির হোসাইনসহ অন্য নেতারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ছিল এই স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য।

বক্তারা আরো বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে আবুল খায়ের লস্কর বলেন, ‘স্বাধীনতা শুধুমাত্র ভূখণ্ডগত মুক্তি নয়; এর সাথে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও জড়িত। স্বাধীনতার ৫৩ বছর অতিক্রম করে আমরা ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপন করছি, তবে এখনো এর পূর্ণ সুফল অর্জন করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানের শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশীদের মধ্যে জাতীয় চেতনা জাগ্রত রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।