ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের জন্য ১ ইউরোর খাবার

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র এক ইউরো মূল্যে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, যা আগে শুধুমাত্র নিম্নআয়ের বা আর্থিক সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল।

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, প্যারিস (ফ্রান্স)
ফ্রান্সে একটি স্কুলের ক‍্যান্টিন
ফ্রান্সে একটি স্কুলের ক‍্যান্টিন |নয়া দিগন্ত

ফ্রান্স সরকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমাতে এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই নীতির আওতায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র এক ইউরো মূল্যে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, যা আগে শুধুমাত্র নিম্নআয়ের বা আর্থিক সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল।

সোমবার (৪ মে) থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

সরকারি তথ্যমতে, আগে একটি তিন-কোর্স খাবারের দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩০ ইউরো, যা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠছিল। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির পর সরকার এই মূল্য কমিয়ে সবার জন্য এক ইউরো নির্ধারণ করেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্যারিসের ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আলেকজান্দ্র ইওয়ানিদেস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মাসে প্রায় ২০ বার ক্যান্টিনে খাই। আগে যেখানে প্রায় ৬০ ইউরো খরচ হতো, এখন তা কমে ২০ ইউরো হবে।’

তার মতে, এই সাশ্রয় করা অর্থ তিনি অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রম বা বাইরে খাওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত অপর এক শিক্ষার্থী তাসফিয়া হোসাইন মনে করেন, এই উদ্যোগের ফলে বাবা-মায়ের ওপর কিছুটা আর্থিক চাপ কমবে।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ ফ্রান্সে সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষার্থীদের অধিকারকে আরো শক্তিশালী করে।’

একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ফ্রান্সের প্রায় ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী আর্থিক কারণে কখনো না কখনো খাবার ছাড়তে বাধ্য হয়েছে এবং ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মাসে একাধিকবার এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি এ উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২৪ সালে প্রায় ছয় লাখ ৬৭ হাজার শিক্ষার্থী এক ইউরো মূল্যের খাবার সুবিধা পেয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। একই বছরে প্রায় চার কোটি ৬৭ লাখ খাবার পরিবেশন করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় রেস্তোরাঁ পরিচালনাকারী সংস্থা ‘ক্রু’-এর মাধ্যমে।

সরকার ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির চাহিদা আরো বাড়বে বলে মনে করছে। তাই ২০২৭ সালের মধ্যে এই প্রকল্পকে শক্তিশালী করতে ১২০ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ফিলিপ বাতিস্তে এই উদ্যোগকে ‘একটি ছোট অভ্যন্তরীণ বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। খাবারের মান বজায় রাখা এবং ক্যান্টিন কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু শিক্ষার্থীদের আর্থিক স্বস্তিই দেবে না, বরং তাদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মান উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।