বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার লক্ষ্যে দু’দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) মালদ্বীপের ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমএনসিসিআই) কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
দু’দেশের এ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম ও মালদ্বীপের ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ মামদুহ এবং সংশ্লিষ্ট চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের উচ্চপদস্থ একটি প্রতিনিধিদল।
বৈঠকে এমএনসিসিআইয়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, বিশেষত ব্যবসা, শিল্প, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে অর্জিত সাফল্য সম্পর্কে মালদ্বীপে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ প্রেক্ষাপটে তারা গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন, যাতে সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সম্ভাবনাসমূহ প্রত্যক্ষ করা যায়।
এমএনসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সঙ্কটকালীন সময়ে মালদ্বীপে পানীয় জলের সরবরাহে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়, যা দু’দেশের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহমর্মিতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সাথে মালদ্বীপে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্ষুদ্রঋণ (মাইক্রোক্রেডিট) ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি মডেল ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
এছাড়াও যৌথ ব্যবসা মেলা ও বাণিজ্য প্রদর্শনী আয়োজন, মালদ্বীপে বাংলাদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
এদিকে হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও জনগণের মধ্যে বিদ্যমান গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন এবং মালদ্বীপের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
হাইকমিশনার উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রম ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য, লজিস্টিকস ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করছে। তিনি বাংলাদেশের বিস্তৃত শিল্পভিত্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন খাত এবং দক্ষ মানবসম্পদ ও কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে মালদ্বীপের সাথে বহুমুখী বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুযোগের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি দু’দেশের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে যৌথ সচেতনতামূলক কর্মসূচি, প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বেসরকারি খাতের যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা সৃষ্টি করার আশ্বাস দেন। একই সাথে মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশী নাগরিকদের পরিশ্রমী ও পেশাদার ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও ভাষার সাথে দ্রুত মানিয়ে নেয়ার সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন।
এ বৈঠকে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক ও জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ জোরদার এবং মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও উভয়ের মধ্যে আলোচনা হয়।



