বাংলাদেশের স্বাধীনতা-উত্তর রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, সাবেক রাষ্ট্রপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়েছে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা। প্রবাসী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা, স্মৃতিচারণ এবং আদর্শিক অঙ্গীকারের এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্যারিসের স্থানীয় ‘সোনার বাংলা’ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ সভায় ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বিএনপি, যুবদল এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানস্থলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফ্রান্স যুবদলের সহ-সভাপতি বাছিত হোসেন। যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফ্রান্স যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাব্বির আহমেদ এবং জিয়া সাইবার ফোর্স ফ্রান্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি কায়সার আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ মামুন উপস্থিত অতিথি ও নেতাকর্মীদের স্বাগত জানান। পরে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন এবং বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম। এ সময় উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ প্রয়াত নেতাকর্মীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফ্রান্স বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা নন; তিনি ছিলেন জাতীয় পুনর্গঠনের এক সাহসী রূপকার। স্বাধীনতা-পরবর্তী সংকটময় সময়ে তিনি বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাসী ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পথ দেখিয়েছিলেন।’
প্রধান বক্তা ফ্রান্স বিএনপি নেতা ইকবাল হুসাইন আলী তার বক্তব্যে বলেন, ‘শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং জনগণের ক্ষমতায়ন। তা‘র আদর্শ আজও দেশের কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস।’
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যেও উঠে আসে শহীদ প্রেসিডেন্টের কর্মময় জীবনের নানা দিক। নজির উদ্দিন যসরী, সোহাগ মুহাম্মদ ইয়াসিন, জিসাদ রহমান, জমির আলি সাহেদ ও ইরশাদ হুসাইন তাদের বক্তব্যে বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
আলোচনা সভায় বক্তারা স্মরণ করেন, স্বাধীনতার পর ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন কর্মসূচি গ্রহণ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়করণ এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা বলেন, দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তার অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা সময়ের দাবি।
বক্তারা আরো বলেন, দেশের বাইরে বসবাস করলেও প্রবাসীরা বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রশ্নে সচেতন ও সক্রিয়। প্রবাসে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করে জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রসারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা সালেহ আহমেদ, কামরুল হোসেন, মুহাম্মদ মুয়াজ্জিন হোসেন, নজির আহমেদ, কাতার বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম, ফ্রান্স যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ সুমন আমিন ও ফয়সাল আহমেদ, দফতর সম্পাদক (যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদা) মাসুদ মিয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, ফ্রান্স জিয়া সাইবার ফোর্সের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ওয়াদুদ আহমদ বাপ্পি, যুবদল সদস্য শামিম আহমেদ, যুবদল নেতা খালেদ আহমেদসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত। মোনাজাতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া, মরহুম আরাফাত রহমান কোকো এবং বিএনপির প্রয়াত সকল নেতাকর্মীর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সাথে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তার সফল নেতৃত্ব কামনা করা হয়।
আলোচনা, স্মৃতিচারণ এবং দোয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এ আয়োজন প্রমাণ করেছে—দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থাকলেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের হৃদয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও আদর্শ আজও সমানভাবে জীবন্ত। তার রাজনৈতিক দর্শন ও জাতীয়তাবাদী চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।



