মালদ্বীপে ময়লার স্তূপে মিলল বাংলাদেশী প্রবাসীর লাশ, রিমান্ডে শ্রীলঙ্কান নাগরিক

‘আমরা এ ঘটনার সর্বশেষ অগ্রগতি ও তদন্ত কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। পাশাপাশি মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছি। একইসাথে প্রবাসী আমিন মিয়ার লাশ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

ওমর ফারুক, মালদ্বীপ
নিহত প্রবাসী বাংলাদেশী আমিন মিয়া
নিহত প্রবাসী বাংলাদেশী আমিন মিয়া |নয়া দিগন্ত

মালদ্বীপের থিলাফুশি আইল্যান্ডে নিখোঁজের দুই দিন পর নিজ কর্মস্থলের ময়লার স্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আমিন মিয়া নামে (২৪) এক প্রবাসী বাংলাদেশীর লাশ। এ ঘটনায় এক শ্রীলঙ্কান প্রবাসী নাগরিককে আটক করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ওই শ্রীলঙ্কান প্রবাসীকে মালদ্বীপের ফৌজদারি আদালতে তুললে প্রথমে তার সাত দিনের রিমান্ড শেষ হলে তা বাড়িয়ে আরো ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

দেশটির পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি প্রবাসী বাংলাদেশী আমিন মিয়া নিজ কর্মস্থল থেকে নিখোঁজ হন। দুই দিন পর ২৮ জানুয়ারি থিলাফুশি আইল্যান্ডে ময়লার স্তূপের ভেতর থেকে ওই প্রবাসী বাংলাদেশীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, আইল্যান্ডটির ময়লার স্তুপ খননকারী যন্ত্রের (এক্সক্যাভেটর) আঘাতে আমিন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে, যা যথাযথ সতর্কতা ছাড়াই এটি পরিচালনা করছিলেন ৩২ বছর বয়সী একজন শ্রীলঙ্কান নাগরিক হেশান মাদুরাঙ্গা দিশানায়ক মেনিকা।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অভিযুক্ত মেনিকাকে আটক করে ফৌজদারি আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে প্রথমে সাত দিনের রিমান্ড দেয়, পরে এটি বাড়িয়ে আরো ১০ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

আদালতের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঘটনার লিখিত প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজে।

তদন্তকারী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানান, প্রাথমিক আঘাতের পর আমিন মিয়া ময়লার স্তূপের মধ্যে পড়ে গেলেও ঘটনাস্থলে কাজ অব্যাহত রাখা হয়। খননকারী যন্ত্রের অপারেটর ঘটনাটি ঘটার সময় বিষয়টি অবগত ছিলেন কি-না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তারা।

তবে সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার আহত হওয়ার মুহূর্তটি ধরা পড়েছে, যা তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মেলে।

এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কল্যাণ সহকারী মো: জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা নিহত আমিন মিয়ার লাশ দেখে এসেছি, একইসাথে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার সর্বশেষ অগ্রগতি ও তদন্ত কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। পাশাপাশি মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছি। একইসাথে প্রবাসী আমিন মিয়ার লাশ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

এছাড়াও মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

প্রবাসী আমিন মিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে মালদ্বীপের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার পর সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে অবহেলার শিকার হয়ে আমিন মিয়ার তার মৃত্যু হয়েছে।

দেশটির মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্তরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে হয়তো আমিন মিয়াকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হতো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, এ ঘটনাটি এখনো স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।