কায়রো বিমানবন্দরে বাংলাদেশী যাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ

সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সীমিত পরিমাণ কসমেটিকস বহন বৈধ হলেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য বহন আইনবিরোধী। এসব অনিয়ম ধরা পড়ার পর থেকেই মিশরীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশী যাত্রীদের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কায়রো (মিশর) সংবাদদাতা
মিশরের কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা অভিমুখী বাংলাদেশী যাত্রীদের, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সম্প্রতি টার্মিনাল-২-এ সৌদি এয়ারলাইন্সসহ মধ্যপ্রাচ্যগামী বিভিন্ন ফ্লাইটে বাংলাদেশী যাত্রীদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, বারবার লাগেজ ফেরত দেয়া এবং প্রয়োজনীয় মালামাল ফেলে যেতে বাধ্য করার মতো ঘটনা ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও চোরাচালান চক্রের কর্মকাণ্ডের কারণে সব বাংলাদেশিকেই সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের একটি ফ্লাইটের প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশী শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা তল্লাশির বাইরে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। তারা জানান, বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেখেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রথমে লাগেজ পরীক্ষা করতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং কয়েকজনকে "যা নিয়ে এসেছ, আগে তা রেখে এসো" বলে ফেরত পাঠানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক শিক্ষার্থীকে দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত কোনো ধরনের লাগেজ পরীক্ষা ছাড়াই নিরাপত্তা এলাকা থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে বারবার অনুরোধের পর তাদের একসাথে ৭ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। এতে বোর্ডিংয়ের সময় ঘনিয়ে আসায় অনেকেই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনীয় মালামাল বিমানবন্দরেই রেখে যেতে বাধ্য হন। যদিও ৪৬ কেজি পর্যন্ত লাগেজ বহনের অনুমতি ছিল, তবু অনেকে মাত্র ৭-৮ কেজির হ্যান্ড লাগেজ নিয়ে বিমানে উঠেছেন বলে দাবি করেছেন।

চোরাচালান চক্রের কারসাজি
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে "ফ্রেশ মালামাল", "১০০ শতাংশ রিস্কমুক্ত" ইত্যাদি আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের লাগেজ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত লাভের আশায় অনেক লাগেজে ১০০ থেকে ২৮০ পিস পর্যন্ত শ্যাম্পু, সাবান, নিভিয়া ক্রিম, স্প্রে এবং বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বহন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সীমিত পরিমাণ কসমেটিকস বহন বৈধ হলেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য বহন আইনবিরোধী। এসব অনিয়ম ধরা পড়ার পর থেকেই মিশরীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশী যাত্রীদের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, "ব্যবসায়ীদের কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ মালামাল বিমানবন্দর পার না হলে তারা আমাদের কোনো টাকা দেয় না। সব ঝুঁকি নিতে হয় শিক্ষার্থীদের। অথচ আমরা লাগেজ হারিয়ে অপমানিত হয়ে দেশে ফিরছি। কয়েকজনের অনিয়মের কারণে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।"

দূতাবাসের হস্তক্ষেপের দাবি
মিশরে বসবাসরত কয়েকজন প্রবীণ প্রবাসীর দাবি, বিমানবন্দরে বাংলাদেশিদের সাথে বর্তমান আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপমানজনক। তাদের মতে, কিছু চোরাকারবারি ও হুন্ডি-সংশ্লিষ্ট চক্রের কারণে সাধারণ প্রবাসী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও পর্যটকরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মিশরে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান ও ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ পরিস্থিতি নিরসনে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি মিশরীয় কর্তৃপক্ষের সাথে দ্রুত আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসীরা। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত না হয়ে লাগেজ ব্যবহারে আইন মেনে চলারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নবনিযুক্ত কাউন্সিলর জাকির হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।