ইতালির রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদ্যাপিত হয়েছে। রাষ্ট্রদূত এ টি এম রকিবুল হক সকালে দূতাবাসে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দিবসটি উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
পরবর্তী সময়ে দূতাবাসে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভার প্রারম্ভে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা করেন।
সন্ধ্যায় রোমের একটি হোটেলে ইতালির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, বিদেশী রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, রোমে জাতিসঙ্ঘের তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্মানে একটি কূটনৈতিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও ওশেনিয়া ডিভিশনের মহাপরিচালক ও রাষ্ট্রদূত আলেসসান্দ্রা স্কিয়াভো।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশী শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ এবং ইতালির জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে মহান স্বাধীনতা দিবস পালনের প্রেক্ষাপট ও স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদগণকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক এবং সক্ষমতার বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা যার যার জায়গা থেকে বাস্তবায়নের জন্য সকলকে আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বাংলাদেশ-ইতালি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের বিভিন্ন আঙ্গিক উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথি রাষ্ট্রদূত আলেসসান্দ্রা স্কিয়াভো তার বক্তব্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ইতালির পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে বৈধ উপায়ে অধিকতর দক্ষকর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বাংলাদেশ কর্নারে ঐতিহ্যবাহী দেশীয় শাড়ি ও হস্তশিল্পের বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা হয়। নৈশভোজে উপস্থিত অতিথিদেরকে বাংলাদেশী এবং ইতালিয়ান খাবার পরিবেশন করা হয়। বাসস



