মালদ্বীপের সাথে সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা চালুসহ পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছে বাংলাদেশ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মালদ্বীপের পরিবহন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনের সাথে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরো গভীর করার লক্ষ্যে সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা চালু এবং হালাল খাদ্য শিল্পে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
এর ফলে উভয়ে অর্থনৈতিক ও পরিবহন সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা বাণিজ্য সহজীকরণ, বাজার সম্প্রসারণ এবং টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় হ্রাস পাবে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে বলে উভয়ে অভিমত ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন সরাসরি শিপিং উদ্যোগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি পণ্য পরিবহন সহজীকরণ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করবে।’
তিনি কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে মালদ্বীপের বিমানবন্দর ও সামুদ্রিক অবকাঠামো ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে অবদান স্বীকার করে মন্ত্রী অতীতের এক সঙ্কটকালে বাংলাদেশ কর্তৃক সুপেয় পানি সরবরাহ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যা দুই দেশের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি আরো বলেন, ‘পরিবহন ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সকল উদ্যোগ জাতীয় নীতিমালা ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হবে।’
এ সময় বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম আগামী ১২ই মার্চ ২০২৬ থেকে মালদ্বীপের জাতীয় বিমান সংস্থা মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশে পুনরায় ফ্লাইট চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানান, যা দুই দেশের যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক হবে।
আলোচনা শেষে উভয়ে সরাসরি শিপিং, বাণিজ্য সহজীকরণ, হালাল খাদ্য শিল্পে অংশীদারিত্ব এবং পরিবহন সহযোগিতা জোরদারে পারস্পরিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।



