প্রবাসী বাংলাদেশীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের সাথে হাইকমিশনারের বৈঠক

শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন কাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের তদারকি, সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশী প্রবাসীদের সাথে প্রতারণায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান হাইকমিশনার।

ওমর ফারুক, মালদ্বীপ
মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের সাথে হাইকমিশনার
মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের সাথে হাইকমিশনার |নয়া দিগন্ত

মালদ্বীপে বসবাসরত ও কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ সুরক্ষায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম।

সম্প্রতি মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এ বৈঠকে তিনি দেশটির কন্ট্রোলার জেনারেল সিপি (অব.) আহমেদ ফাসীহ-এর সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের কন্ট্রোলার জেনারেল সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে হাইকমিশনারকে অবহিত করেন। এর মধ্যে ই-ভিসা সিস্টেম ও ইমিগ্রেশন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু উল্লেখযোগ্য। তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা দ্রুত সমাধান করা হবে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় ভিসার অবস্থা অনলাইনে যাচাই করা যাবে এবং নিকট ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভিসা ইস্যুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া বর্তমানে বৈধ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ভিসায় রূপান্তরের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে এবং নতুন আগমনকারীদের জন্য এ সুবিধা তাৎক্ষণিকভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীদের কল্যাণসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ সময় হাইকমিশনার বলেন, ‘অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালদ্বীপে প্রবেশ করলেও প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান না পাওয়ায় পরবর্তীতে নানাবিধ সমস্যার মুখে পড়েন, যা তাদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে দেয়।’

তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের শোষণ ও প্রতারণা রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তথাকথিত ‘ফ্রি-ভিসা’ প্রথা বন্ধে সমন্বিত সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

এছাড়া ডলার সংকট নিরসনে একটি কার্যকর ও নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন কাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের তদারকি, সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশী প্রবাসীদের সাথে প্রতারণায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান হাইকমিশনার। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রাপ্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্য তিনি ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেলের সাথে শেয়ার করেন।

জবাবে কন্ট্রোলার জেনারেল আশ্বাস দেন যে, যাচাই-বাছাই শেষে প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত কোম্পানি ও নিয়োগকর্তাদের ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের শ্রম সম্পর্ক কর্তৃপক্ষ (এলআরএ)-এ অভিযোগ দাখিলে উৎসাহিত করা হবে।

মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, নতুন পাসপোর্টে কোনো তথ্য পরিবর্তন হলে সরকারি নথির জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফিকেশন লেটার প্রয়োজন হয়। এছাড়া গ্রেফতার বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে শেয়ার করা হয়। আইনানুগ বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গড়ে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে বলেও জানানো হয়।

বৈঠক শেষে হাইকমিশনার বাংলাদেশী প্রবাসীদের কল্যাণে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের গৃহীত উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও প্রবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উভয়পক্ষই বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আলোকে বাংলাদেশী নাগরিকদের সুরক্ষায় যৌথভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।