ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উত্তরের শহরতলি ওভেরবিলিয়ে শহরে গ্যাস লিক থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুই বছর বয়সী বাংলাদেশী শিশু নাহিলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ফ্রান্সের স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সেইন-সাঁ-দনি (৯৩) ডিপার্টমেন্টের আওতাধীন ওভেরবিলিয়ে শহরের রুই পল-ভেরলেন এলাকায় একটি প্যাভিলিয়ন বা ভিলা বাড়িতে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বাড়িটি কোনো বহুতল ভবন ছিল না।
নাহিল বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের কাটখাল গ্রামের বাসিন্দা রাসেলের ছেলে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়িটির একটি অংশ ধসে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফরাসি দমকল বাহিনী, পুলিশ ও জরুরি পরিসেবার উদ্ধারকারী দল।
প্রেফেকচুর এএফপিকে জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে প্রায় ১১০ জন দমকলকর্মী অংশ নেন। ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি দলও কাজ করে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লো মোঁদ, লো প্যারিজিয়াঁ এবং বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিক থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গ্যাস লিকের সুনির্দিষ্ট উৎস ও কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় একটি বিচারিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিস্ফোরণের সময় নাহিল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রবাসের মাটিতে মাত্র দুই বছর বয়সী সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।
নাহিলের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কাটখাল গ্রামেও শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
তবে ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিহত শিশুটির নাম বা বাংলাদেশী পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে তাকে শুধু দুই বছর বয়সী শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নাহিলের নাম ও পারিবারিক পরিচয়ের তথ্য পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
ওভেরবিলিয়ে শহরের মেয়র সোফিয়েন কারুমি জানান, বিস্ফোরণে এক শিশু নিহত এবং আরো সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন।
রোববার ভোরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক বার্তায় মেয়র এ তথ্য জানান। তিনি উদ্ধারকাজে অংশ নেয়া দমকল বাহিনী, পুলিশ ও সামু -এর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। মেয়র বলেন, ‘তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন।’
বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পৌরসভার একটি কক্ষ, অতিরিক্ত শয্যা এবং একটি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুম ক্ষতিগ্রস্তদের থাকার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়।
এদিকে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং গ্যাস লিকের উৎস জানতে ববিনি প্রসিকিউটরের অধীনে বিচারিক তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
প্রবাসে বাংলাদেশী পরিবারের দুই বছর বয়সী শিশু নাহিলের মৃত্যুতে ফ্রান্স ও বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।



