মালয়েশিয়ায় ৪ মাস ধরে বেতন পান না ১০৭ বাংলাদেশী শ্রমিক

তাদের ভাষ্য, টানা চার মাস বেতনহীন অবস্থায় দিন কাটানোর পরও আরো প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে, যা তাদের দুর্ভোগকে আরো গভীর করবে।

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া
শ্রমিকরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়ে বিশেষ কর্মসূচি পালন করেন
শ্রমিকরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়ে বিশেষ কর্মসূচি পালন করেন |ছবি : নয়া দিগন্ত

মালয়েশিয়ায় এরোফোম কেজাম নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১০৭ বাংলাদেশী শ্রমিক টানা চার মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবিক সঙ্কটে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, পোর্ট কেলাং এ অ্যারোফোম কেজাম কোম্পানি দু’বছর ধরে কয়েক মাসের বেতন আটকে রেখে তারপর একসাথে বেতন দেয়। এভাবে আটকে রেখে রেখে বেতন নিয়মিত পরিশোধ না করায় অনেকেই খাবার, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচারের আশায় তারা দেশটির জেটিকে শ্রম বিভাগে মামলা করেছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) পোর্ট ক্লাং এ অবস্থিত শ্রম বিভাগে শ্রমিকদের অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৭০ জন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।

শুনানির আগে ১০৭ জন শ্রমিক সম্মিলিতভাবে আইনজীবী লতিফা কোয়াকে তাদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয় আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা।

তাদের ভাষ্য, টানা চার মাস বেতনহীন অবস্থায় দিন কাটানোর পরও আরো প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে, যা তাদের দুর্ভোগকে আরো গভীর করবে।

শুনানিতে আইনজীবী লতিফা কোয়া মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের যেন বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) করা না হয়, সে বিষয়ে আইনি সুরক্ষার প্রশ্নও উত্থাপন করেন। কারণ মামলা চলাকালে অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে শ্রমিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরো জটিল হয়ে পড়তে পারে।

শুনানি শেষে শ্রমিক ও তাদের সমর্থকরা জেটিকে কার্যালয়ের বাইরে শান্তিপূর্ণ সংহতি কর্মসূচি পালন করেন। ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে তারা বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ, অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার দাবি জানান। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।