মালদ্বীপের ধীগুরাহ আইল্যান্ডে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশীর মৃত্যুর ঘটনায় দু’জনের লাশ রোববার (১৫ মার্চ) দেশে আনার কথা রয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে নিহত ও আহত প্রবাসী বাংলাদেশীদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
ভয়াবহ ওই অগ্নিদ্বগ্ধে নিহত পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশী হলেন— লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার তাজ উদ্দিন ইসলাম (৩০), ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মো: রবিন মোল্লা (২৬), হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মো: সদর আলী (৪৭), বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মো: নূরনবী সরকার (২৮) ও নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার সফিকুল ইসলাম (৪৫)।
এর মধ্যে মো: সদর আলী ও সফিকুল ইসলামের লাশ আগামীকাল রোববার দেশে পাঠানোর কথা রয়েছে।
হাইকমিশন জানায়, এ ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে দ্রুত যোগাযোগ ও সমন্বয় করে নিহতদের লাশ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারের সাথে হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম নিজে ও মিশনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তাদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নিহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সাথেও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে কমিশন।
এ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরো দুই বাংলাদেশী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন— সুনামগঞ্জ জেলার জামাল উদ্দিন ও কুমিল্লা জেলার সাদ্দাম হোসেন (২৮)।
আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মালের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থাও করেন।
হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম গুরুতর আহত দুই প্রবাসীকে দেখতে রাজধানী মালের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে পরিদর্শন করেন এবং তাদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি গালুলু মর্গ পরিদর্শন করে ওই পাঁচ বাংলাদেশীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি নিহতদের লাশ দ্রুত দেশে পাঠানোর বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।



