পায়ে হেঁটে ইফতার কিনছেন আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার শতবর্ষী মাহাথির মোহাম্মদ

মালয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক ইফতারসামগ্রীর পসরাকে ‘বাজার রমাদান’ বলা হয়। সেই বাজার রমাদানে দেখা গেছে মাহাথির মোহাম্মদ ইফতারসামগ্রী কিনছেন। এসময় দোকানীর সাথে...

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া
ইফতার কেনার সময় দোকানির সাথে কথা বলছেন মাহাথির মোহাম্মদ
ইফতার কেনার সময় দোকানির সাথে কথা বলছেন মাহাথির মোহাম্মদ |সংগৃহীত

বয়সের সেঞ্চুরি করতে আর মাত্র কয়েকটা দিন মাত্র বাকি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়ার পরিবর্তে মাহাথির লাঠি কিংবা কারো সাহায্য ছাড়াই সুস্থ শরীরে নিজেই হেঁটে হেঁটে বাজার রমাদান থেকে ইফতার কিনছেন।

এ বছরের ১০ জুলাই মাহাথির মোহাম্মদের বয়স ১০০ বছর পূর্ণ হবে।

মালয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক ইফতারসামগ্রীর পসরাকে ‘বাজার রমাদান’ বলা হয়। সেই বাজার রমাদানে দেখা গেছে মাহাথির মোহাম্মদ ইফতারসামগ্রী কিনছেন। এসময় দোকানীর সাথে মশকরা ও সেলফিও তুলেন তিনি। এসময় দোকানীরা খাবার প্যাকেট মাহাথিরের হাতে তুলে দেওয়ার তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ব্রাপা? মানে দাম কত? তখন দোকানীরা বললেন, বেলাঞ্জা লা। মানে ফ্রি হিসেবে দেয়া হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, বেশির ভাগ দোকানী তাকে বেলাঞ্জা হিসেবে খাবার প্যাকেট হাতে তুলে দিচ্ছেন।

মাহাথির মোহাম্মদ এই দীর্ঘ জীবনে কিভাবে সুস্থ আছেন এবং এর রহস্যটা কি? স্থানীয় সাংবাদিকেরা একবার প্রশ্ন করেছিলেন মাহাথির মোহাম্মদকে। উত্তরে তিনি বললেন, তেল, শর্করা বা চর্বি এবং চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললেই দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকা সম্ভব।

মাহাথির মোহাম্মদই মালয়েশিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি বাংলাদেশীদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

মাহাথির বিন মোহাম্মদের জন্ম ১৯২৫ সালের ১০ জুলাই কেদাহ রাজ্যের আলোর সেতারে। পেশায় ছিলেন চিকিৎসক।

এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে তার শাসন আমলের কোনো দুর্নীতির অভিযোগ উঠেনি।

তিনি ১৯৮১ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন দল পর পর পাঁচবার সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। তিনি এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৩ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি স্বেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেন।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ব্যাপক দুর্নীতি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর অবসর গ্রহণের দীর্ঘ ১৫ বছর পর ৯২ বছর বয়সে মাহাথির মোহাম্মদ আবারো আসেন রাজনীতিতে। ২০১৮ সালের ৯ মে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে জয়ের পরদিন ১০ মে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। সর্বশেষ ১৯ নভেম্বর ২০২২ নির্বাচনে হেরে যান।