শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সমাবেশ থেকে আগামী রোববারের মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি অ্যাকাডেমিক ভবন ‘ই’ প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব রিয়াজ রিমন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতিনিধি থাকলেও শিক্ষার্থীদের কোনো প্রতিনিধি নেই। শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে কথা বলার মতো কেউ নেই। তাই প্রশাসনকে উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।’
ভিসিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে আপনি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, শাকসু নির্বাচন হলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা কোনো সহযোগিতা করবেন না। তার বিনিময়ে তারেক রহমান সরকার আপনাকে শাবিপ্রবির ভিসি বানিয়েছেন। আপনি আপনার পুরস্কার পেয়েছেন। এখন আপনি শিক্ষার্থীদের শাকসু নির্বাচন দিয়ে দিন।’
ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক শাকিল মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি ও ছাত্রদলের ষড়যন্ত্রের কারণেই শাকসু নির্বাচনের একদিন আগে নির্বাচন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এটা আমাদের সকলের কাছে পানির মতো পরিষ্কার।’
ভিসিকে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, ‘আপনার রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। কিন্তু আপনি যখন ভিসির দায়িত্বে আছেন, তখন আপনি নয় হাজার শিক্ষার্থীর ভিসি। রাজনৈতিক পরিচয় এক পাশে রেখে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা করাই আপনার প্রধান দায়িত্ব।’
প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে শাকিল বলেন, ‘রোববারের মধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা না করলে আপনাকে অতীত স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির কারণে অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় মাসের পর মাস বন্ধ ছিল। আপনারা যদি শিক্ষার্থীদের দাবিকে উপেক্ষা করেন ও আমাদের সাথে বসে রোডম্যাপ ঘোষণা না করেন, তাহলে আবারো সেই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’
জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আবরার রাশিদ বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের যোগসাজশে যেভাবে শাকসু নির্বাচন বন্ধ হয়েছে, বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সেটিকে পুনরুদ্ধার করে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনও আগের প্রশাসনের সাথে যেভাবে হাঁটছে, এর ফল আমরা খুব একটা সুখকর মনে করছি না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জুলাই থেকে উঠে আসা মানুষ। আমরা চাই, এই প্রশাসন ও এই সরকার শিক্ষার্থীদের স্পিডটা বুঝুক। যদি শিক্ষার্থীদের স্পিড বুঝতে ব্যর্থ হয়, যদি শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়া বুঝতে এই সরকার ও প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তবে এর পরিণাম খুব একটা সুখকর হবে বলে আমরা মনে করি না।’



