ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের সামনেই হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপ।
রোববার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গত ৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের বর্ধিত ও ১৭টি হল কমিটি দেয়া হয়। তবে কমিটিতে ছাত্রলীগ, ছিনতাইকারী, মাদকসেবী, ভ্রূণ হত্যাকারীসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্তরা পদ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে।
শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, এ কমিটি দেয়ার পর থেকেই কমিটিকে পকেট ও বিতর্কিত কমিটি আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেন শাখা ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা। এরপর থেকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ শীর্ষ পাঁচ নেতা। গত শুক্রবার বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে দোয়া ও মিলাদ মহফিলেও তাদের দেখা যায়নি। এ দ্বন্দ্বের অবসানের জন্য আজ ক্যাম্পাসে আসেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়াসহ কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা। এ সময় তাদের সাথে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর, সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিকসহ পাঁচ নেতা। তাদের অংশের অন্য নেতাকর্মীরা তখন ক্যাফেটেরিয়ার শিক্ষক লাউঞ্জে অবস্থান করছিলেন।
এদিকে কিছু সময় পর শাখা ছাত্রদলের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীদের আরেকটি দল (বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী) বাইক শোডাউন দিয়ে ক্যাফেটেরিয়ার নিচে আসেন। পরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ক্যাফেটেরিয়ার শিক্ষক লাউঞ্জে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে দেখা করতে চান। এ সময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের অনুসারীরা বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের গেট দিয়ে প্রবেশ করতে বাধা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে হাতাহাতি ও গালাগালির ঘটনা ঘটে।
পরে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম এসে দু’পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ক্যাফেটেরিয়ার শিক্ষক লাউঞ্জে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলোচনায় বসেন ও তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা ও তাদের অনুসারীরা ক্যাফেটেরিয়ার শিক্ষক লাউঞ্জ থেকে বের হয়ে নিচের তলায় অবস্থান নেন। পরে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের অনুসারীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দোয়া মাহফিল শেষে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের সাথে আসা বহিরাগতদের ক্যাম্পাস ছাড়া করেন বিক্ষুব্ধ অংশের নেতাকর্মীরা। পরে ক্যাফেটরিয়ায় সাধারণ সম্পাদক নাছির দ্বিতীয় দফায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠকে বসেন।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, ‘যারা বিশৃঙ্খলা করেছে তাদের মধ্যে আমাদের সংগঠনের বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতাকর্মী রয়েছেন। এর পাশাপাশি একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এটার সাথে জড়িত।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দু’পক্ষের মধ্যে একটু ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছিল। প্রক্টরিয়াল টিম সেটা নিবৃত্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সবাইকে শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’



