মহাসড়কে ববি ছাত্রদলের চাঁদাবাজির অভিযোগে ২ নেতা বহিষ্কার

‘দল আমার বিরুদ্ধে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমি সেটাকে গ্রহণ করলাম। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ভালোভাবে চলুক, কলঙ্ক মুছে যাক সে কামনা করছি।’

মেহরাব হোসেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি : নয়া দিগন্ত

চাঁদাবাজির অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল ও মো: মিঠুকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পদক মো: জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ববি শাখা ছাত্রদল দীর্ঘদিন মহাসড়কে মাছের পোনাবাহী গাড়ি আটকে চাঁদাবাজি করে আসছিল। ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতার যোগসাজশে চলতো এ চাঁদাবাজি। মঙ্গলবার চাঁদাবাজির ঘটনা প্রকাশের পর দুই সহ-সভাপতিকে বহিষ্কারাদেশ দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

‎বহিষ্কারাদেশ বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল এবং মো: মিঠুকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

‎‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে কোনোরূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা দেন।

বহিষ্কৃত মিঞা বাবুল বলেন, ‘দল আমার বিরুদ্ধে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমি সেটাকে গ্রহণ করলাম। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ভালোভাবে চলুক, কলঙ্ক মুছে যাক সে কামনা করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আসলে আমরা সিনিয়র তো, সব জায়গায় আমাদের নামটাই আগে। তবে সামগ্রিকভাবে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি দলের স্বার্থে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এটা পুরোটা একটা নাটক হয়ে গেল। নিজেরা বাঁচতে দু’জনকে বলির পাঠা বানালো। সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানের বহিষ্কার হওয়া উচিত ছিল আগে। এবং শীর্ষ পদধারীদের যাদের যোগসাজশে এগুলো চলে।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলাবার পোনাবাহী মাছের গাড়ি আটকে চাঁদাবাজির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল, সহ-সভাপতি মো: মিঠুন, সহ-সভাপতি আকিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: ইব্রাহিম হোসেন স্বজন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: ইমরান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: শাখাওয়াত, সহ-সাংগাঠনিক সম্পাদক মো: হায়দার মুন্সি, শাহরিয়ারসহ কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও শুধু দু’জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।