মারা গেছেন জাবির সেই দগ্ধ শিক্ষার্থী রনি

রনির শারীরিক অবস্থা শুরু থেকেই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। তার শ্বাসনালীসহ শরীরের বড় একটি অংশ দগ্ধ হওয়ায় হার্ট, কিডনি ও ফুসফুসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো অকেজো হয়ে পড়েছিল। শেষ দিকে রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় লাইফ সাপোর্টে রেখেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রনি
আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রনি |নয়া দিগন্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাবি ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম রনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

সোমবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রনির বড় ভাই মো: মাসুদ রানা। রনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।

এর আগে, গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে একই ঘটনায় দগ্ধ অভিযুক্ত যুবক আব্দুস সোবহান রায়হানও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ঢাকা মেডিক্যাল বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা: জহির উদ্দিন রনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রনির শারীরিক অবস্থা শুরু থেকেই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। তার শ্বাসনালীসহ শরীরের বড় একটি অংশ দগ্ধ হওয়ায় হার্ট, কিডনি ও ফুসফুসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো অকেজো হয়ে পড়েছিল। শেষ দিকে রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় লাইফ সাপোর্টে রেখেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় এক মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সোবহান রায়হান পারিবারিক কলহের জেরে নিজের ঘরে অকটেন ছিটিয়ে আগুন দেয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে রনিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও প্রতিবেশী মানবিক কারণে তাকে বাধা দিতে সেই ঘরে প্রবেশ করেন। তারা রায়হানকে শান্ত করার চেষ্টা করতেই তিনি লাইটার দিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে রনিসহ সেখানে উপস্থিত রায়হান, রাহাত ও হাসিনুর নামের চারজন দগ্ধ হন।