প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তির যাত্রা শুরু বারির

বারি দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দানাজাতীয় শস্য, কন্দাল ফসল, ডাল, তেল ফসল, সবজি, ফল, ফুলসহ প্রায় ২১২টি ফসলের ওপর গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Gazipur
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট |নয়া দিগন্ত

দেশের সর্ববৃহৎ বহুবিধ ফসল গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে গাজীপুরে বারির প্রধান কার্যালয়ের সামনে কেক কেটে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. মো: মঞ্জুরুল কাদির। এ সময় বারির বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বারি দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দানাজাতীয় শস্য, কন্দাল ফসল, ডাল, তেল ফসল, সবজি, ফল, ফুলসহ প্রায় ২১২টি ফসলের ওপর গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বারি সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ফসলের ৬৮১টি উচ্চ ফলনশীল (হাইব্রিডসহ), রোগ প্রতিরোধক্ষম এবং প্রতিকূল পরিবেশে চাষোপযোগী জাত উদ্ভাবন করেছেন। পাশাপাশি ৬৯২টি উৎপাদন প্রযুক্তিসহ মোট ১,৩৭৩টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তির ফলে দেশে তেলবীজ, ডালশস্য, আলু, সবজি, মসলা ও ফলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে বারির প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও তুলে ধরা হয়। ১৯৭৬ সালের ৪ আগস্ট রাষ্ট্রপতির ৬২ নম্বর অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বক্তারা বলেন, এই পদক্ষেপ দেশের কৃষি গবেষণার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদি কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গবেষণার প্রসারে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বক্তারা আরো বলেন, গত পাঁচ দশকে বারির সাফল্য প্রমাণ করে যে, দূরদর্শী নীতিনির্ধারণ, গবেষণায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং বিজ্ঞানীদের নিবেদিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব।

তারা আশা প্রকাশ করেন, বারির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন দেশের কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বারির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. রেশমা সুলতানা, পরিচালক (গবেষণা) ড. ফারুক আহমেদ, পরিচালক (উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র) ড. কাওছার উদ্দিন আহাম্মদ, পরিচালক (কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র) ড. নির্মল কুমার দত্ত, পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের এবং পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. মো: মোশাররফ হোসেন মোল্লা।

এছাড়াও বারির বিভিন্ন কেন্দ্র ও বিভাগের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।