জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ‘অধিকতর উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ছয়টি আবাসিক হলে গ্যাস সংযোগের দাবিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী মামুন।
বুধবার (২১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির মাধ্যমে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টাকে এ স্মারকলিপি পাঠানো হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জাহাঙ্গীরনগরে বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী ২১টি হলে আবাসিকভাবে অবস্থান করছে।
এগুলোর মধ্যে নবনির্মিত রোকেয়া হল, ফজিলাতুন্নেছা হল, বীরপ্রতীক তারামন বিবি হল, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল, ২১ নম্বর হল ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল। এ ছয়টি হলের চারটি প্রায় দু’বছর আগে এবং বাকি দু’টি ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে চালু হলেও এখনো কোনো হলে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়নি। ফলে ডাইনিং ও ক্যান্টিন চালু না থাকায় শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ১৫ জুলাই সন্ধ্যা থেকে ১৬ জুলাই প্রথম প্রহরে গুলির সামনে বুক পেতে দিয়ে আন্দোলনকে তীব্রতর করে তুলেছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো আমলে নেয়ার সংস্কৃতি তৈরি করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, সরকারের শিক্ষাবান্ধব নীতির আলোকে এ সমস্যার দ্রুততম সময়ে সমাধান হবে।
তিনি পেট্রোবাংলা ও তিতাস গ্যাসসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার জন্য উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে মেহেদী মামুন বলেন, নবনির্মিত ছয়টি হলের মধ্যে চারটি হলের উদ্বোধনের দু’বছর পার হলেও এখনো গ্যাস সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। বাকি দু’টি হলের উদ্বোধনেরও প্রায় ছয় মাস পার হয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা হল থেকে ডাইনিং ও ক্যান্টিনে সুলভ মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা দাবি করলেও প্রশাসন এখনো সে দাবিতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সম্প্রতি আমি উপদেষ্টা মহোদয়ের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, আমাদের এই চিঠির প্রেক্ষিতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলে তিনি পেট্রোবাংলাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেবেন।



