বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বাবা হারা মো: ওমর ফারুক ও বাবা ছাড়া মো: হামজা ফকির। তিন বছর আগে ওমরের বাবা মিজানুর রহমান মারা গেছেন। আর হামজার বাবা মিশর ফকির ১০ বছর আগে তাদের ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বাবা ছাড়া অভাবের সংসারের হাল ধরেন তাদের মা। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তারা দু’জনেই সন্তানের সুশিক্ষিত করে গোড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দারিদ্রতাকে জয় করে তাদের দু’জনের দুই সন্তান এবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।
এ আনন্দ তাদের যতটা আনন্দিত করেছে, ততটাই ফেলেছে শঙ্কায়। কারণ প্রতিযোগিতার এ যুগে অর্থাভাবে হারিয়ে না যায় ওমর ও হামজার এ মেধা।
ওমর জানায়, লেখাপাড়া শেষে সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে চায়। অন্যদিকে হামজার ইচ্ছা ভবিষ্যতে ব্যাংকার হওয়া।
ওমরের মা হাফিজা আক্তার জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাদের পাঁচ সদস্যর পরিবার। বাস করেন শিবপুর মধ্যপাড়া গ্রামে। তিন ছেলেই স্কুলে লেখাপড়া করে। তাদের লেখাপড়া ও জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করেন। সেই সামান্য আয় দিতে অতি কষ্টে সন্তানদের লেখাপড়া চলে।
হামজার মা কাকলী জানান, স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে তিন সদস্যর পরিবার তার। সেই থেকে তার বাবার বাড়ি শ্যামপাড়া গ্রামে আছেন। অনেক কষ্টে ছেলে ও মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালান।
শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী পারভিন জানান, ওমর ফারুক তার বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে অত্যান্ত মেধাবী ছাত্র। তার লেখাপড়ার জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যাণী রানী বাড়ই জানান, হামজা তার বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে নানা বাড়ি থেকে লেখাপড়া করে। হামজা অত্যান্ত মেধাবী ছাত্র।
ওমর ও হামজা দু’জনই বর্তামানে চিতলমারী সরকারি এস এম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে।



