ইবিতে সিটে উঠতে না পেরে প্রভোস্টের কক্ষের সামনে অবস্থান

শনিবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা হল প্রভোস্টের কক্ষের সামনে বিছানা পেতে অবস্থান নেন।

তাজমুল জায়িম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

Location :

Kushtia
বরাদ্দ পাওয়া সিট খালি না থাকায় হল প্রভোস্টের অফিসের সামনে অবস্থান
বরাদ্দ পাওয়া সিট খালি না থাকায় হল প্রভোস্টের অফিসের সামনে অবস্থান |নয়া দিগন্ত

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে বরাদ্দ পাওয়া সিটে উঠতে না পেরে প্রভোস্টের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তিন শিক্ষার্থী।

শনিবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা হল প্রভোস্টের কক্ষের সামনে বিছানা পেতে অবস্থান নেন।

অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীরা হলেন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আবু বকর, একই বিভাগের মোবারক উল্লাহ এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের তানভীর আরিফ। তারা যথাক্রমে হলের ৩২৫, ২১৫ ও ৩২৭ নম্বর কক্ষে সিট বরাদ্দ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হল প্রশাসনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে তারা সিট বরাদ্দ পান। তবে বরাদ্দ পাওয়া কক্ষে গিয়ে দেখেন, সেখানে আগে থেকেই অন্য শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন। কয়েকটি কক্ষে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থীকে সিট বরাদ্দ দেয়ায় নতুন বরাদ্দপ্রাপ্তরা কক্ষে উঠতে পারছেন না। একই সাথে কিছু কক্ষে সিট ফাঁকা থাকলেও সেগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবু বকর বলেন, ‘৩২৫ নম্বর রুমে সিট বরাদ্দ পেয়েছি। ওই কক্ষে আগে থেকেই একজন অবস্থান করছিলেন। পরে আবার নতুন করে আরো তিনটি সিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ফলে সেখানে আমি আর সিট পাচ্ছি না।’

তিনি বলেন, ‘হলে সিট পাওয়ার পর গত মাসেই আমি মেসের সিট ছেড়ে দিয়েছি। এখন হলে উঠতে না পেরে থাকার জায়গা সংকটে পড়েছি। বর্তমান প্রভোস্টের মেয়াদ আর মাত্র ছয় দিন আছে। তিনি চলে গেলে পরবর্তী প্রশাসন সিট দেবে কি না, তাও জানি না।’

আরেক শিক্ষার্থী তানভীর আরিফ বলেন, ‘আবেদনের পর আমাকে বৈধভাবে রুম নম্বর দেয়া হলেও সেখানে গিয়ে দেখি দুই সিটের রুমে ইতোমধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে সেখানে থাকার কোনো পরিবেশ নেই। হলের অনেক রুমেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থীকে বৈধ সিট দেয়া হয়েছে। অথচ অনেক রুমে এক-দুজন বৈধ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অন্য হলের শিক্ষার্থীরা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে হল প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও তারা শুধু দেখছি বা ধৈর্য ধরো বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা এ কর্মসূচি নিয়েছি।’

এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, ‘হলের স্টাফরা আমাকে যে তথ্য দিয়েছেন, তার ভিত্তিতেই সিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তথ্যে গরমিল থাকায় বর্তমানে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেও আমি কোনো সহযোগিতা পাইনি। বর্তমানে আমি ক্যাম্পাসের বাইরে আমার বাসায় চলে এসেছি। এ কারণে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের বিষয়ে এ মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না।’