জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সংবাদ প্রকাশের জেরে মব তৈরি করে তানজীর হোসাইন সাকিব নামে এক সাংবাদিককে নির্যাতন করে হত্যাচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ভুক্তভোগী সাংবাদিক এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
সাংবাদিক সাকিব একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের জাবি প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর আ ফ ম কামালউদ্দীন হলে অনাবাসিক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের ফিস্টের টোকেন না দেয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হলের শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টসহ হল প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের ডাইনিং রুমে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় ডাইনিং রুমে বসে থাকা শিক্ষক ও হল সংসদের ভিপি ও জিএসের দিকে লক্ষ করে পানির বোতল নিক্ষেপ করা হয়। পরে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান ও গালাগালা করা হয়। এ সময় উত্তেজনা আরো বাড়লে জাকসুর এক সদস্য ডাইনিংয়ে প্রবেশ করতে চায় তখন তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়। একপর্যায়ে ডাইনিং কক্ষ ও হলের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এ সময় হলের ভেতরে থাকা সাংবাদিকসহ কাউকে বের হতে দেয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত দেড়টার দিকে ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনায় বসেন। এসব ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেন তানজীর হোসাইন সাকিব।
সংবাদ প্রকাশের জেরে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে হল ত্যাগ করার সময় ৮-১০ জন শিক্ষার্থী তাকে ধাওয়া দেয়। এ সময় তাকে হলের প্রধান গেটে ধরে নিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে নিয়ে গিয়ে মারধরের চেষ্টা করে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ শামীমের নেতৃত্বে কামরুল হাসান রামিমসহ অভিযুক্তরা তাকে হলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে মারধর ও মব তৈরি করে হত্যাচেষ্টা চালায়। এ সময় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে সহকর্মী সাংবাদিকদের সহায়তায় তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হন। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে জাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মেহেদী মামুনসহ অন্য সাংবাদিকদেরও লাঞ্ছিত করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, আ ফ ম কামালউদ্দীন হল ও আশপাশের এলাকায় স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং তার স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগে রসায়ন বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আহমেদ শামীম, দর্শন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের কামরুল হাসান রামিম, ইতিহাস বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের ইমন শাহ, বাংলা বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের নোমানসহ ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই আ ফ ম কামালউদ্দীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শামীম বলেন, ‘গতকাল আমাদের হলে বিজয় দিবসের ফিস্টের খাবার সংক্রান্ত একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সাকিব একটি নিউজ করেছেন। নিউজটি আমাদের কাছে কিছুটা অসংঙ্গতিপূর্ণ মনে হওয়ায় তার সাথে কথা বলার জন্য ডাকি। কিন্তু তিনি আমাদের সাথে কথা না বলে দৌড়ে পালাতে থাকেন। এখানে মারধর বা হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত একটি কমিটি করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



