জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি বর্ধিতকরণ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও হল কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এক সম্মেলনের মাধ্যমে এ নিন্দা জানায় সংগঠনটি।
এর আগে একটি লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠ করেন সংগঠনটির জাবি শাখার আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে টিকিয়ে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ প্রতিটি ক্যাম্পাস ও হলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধভাবে সিট দখল, গণরুম, গেস্টরুম ও র্যাগিং কালচারকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি সেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রাণের চাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল থেকে গণরুম, গেস্টরুম ও র্যাগিং কালচারকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করা। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল হলগুলোতে রাজনৈতিক কমিটি গঠন করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এ প্রাণের চাওয়াকে উপেক্ষা করেছে। আমরা মনে করি এর মাধ্যমে হলগুলোতে পুনরায় গণরুম, গেস্টরুম ও র্যাগিং কালচার ফেরত আসবে, যা হবে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার সাথে চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আজকে যেখানে বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক কাঠামোর সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্তি চায়, সেখানে ছাত্রদলের হল কমিটি দেয়া যেন ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে একটি নতুন রূপ দেয়ারই প্রয়াস। আমরা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে দেখেছি এবং ছাত্রদল বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে বরাবরই ছিল এক বজ্রকণ্ঠ। সেই ছাত্রদল ফ্যাসিবাদী কাঠামো ফেরত আনার যে প্রয়াস আজ দেখিয়েছে তা ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিটি সংগঠনকে হতাশ করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রত্যেকটি সচেতন শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনকে আহ্বান জানাচ্ছি এ অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য।



