নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘মেহফিল-ই ইনকিলাব ও কাওয়ালী সন্ধ্যা’।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুনুন সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
জুলাই আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে এ মেহফিল ও কাওয়ালীর সন্ধ্যা আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে স্মরণ করা হয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের শহীদ আবরার ফাহাদ, জুলাই শহীদ মুগ্ধ, আবু সাঈদসহ সকল শহীদকে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ, স্মরণ এবং গণসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। অনুষ্ঠানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণাও চালানো হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন আজাদী মঞ্চের কাওয়ালী পরিবেশনা। এ ছাড়া কান্ডারী শিল্পীগোষ্ঠী, নোবিপ্রবির ফুনুন সাংস্কৃতিক সংসদ এবং মোহনা শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা কাওয়ালী ও ইসলামিক সংগীত পরিবেশন করেন। পরিবেশনাগুলোতে প্রতিবাদী চেতনা, মানবিক আবেদন ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয় ফুটে ওঠে।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর পর্যায়ক্রমে নাতে রাসুল, কবিতা আবৃত্তি, কাওয়ালী, ইসলামিক সংগীত, দেশাত্মবোধক গান ও পল্লীগীতি পরিবেশিত হয়। দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া জাগানো পরিবেশনার মধ্যে ছিল দিল্লিতে নিজাম উদ্দিন আওলিয়া এলো, এসো না আল্লাহর গান গাই, এই শিকল পরা ছল মোদের এই ছল, কারার ঐ লৌহ কপাট, চল চল চল, কাণ্ডারী হুঁশিয়ার, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, উষার দুয়ারে হানি আঘাত, শিরায় শিরায় আগুন জ্বালাও, মুক্তির মন্দির সোপানতলে, কুন ফায়া কুন, দামাদাম মাস্তে কালান্দার, মওলা মওলা মেরে মওলা, ভার দে ঝোলি মেরে সহ আরও বহু সংগীত।
কাওয়ালী পরিবেশনার একপর্যায়ে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন। পরিবেশনা শেষে তারা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ‘বিচার, বিচার, বিচার চাই ,হাদী হত্যার বিচার চাই’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
অনুষ্ঠান সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ করে ১৮তম ব্যাচের এমআইএস বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিবাদী চেতনা ও সাংস্কৃতিক বোধ জাগ্রত করে। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ থাকলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক ও প্রতিবাদী আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক, অতিথি ও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন। নানান সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শেষ হয়।



