জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণ ঘিরে গাছ কাটার বিষয়টিকে ভুল বুঝাবুঝি উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা দিয়েছেন অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের শিক্ষার্থীরা এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয় ২০২০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম সভায়। এরপর ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেট সভায় এটি অনুমোদিত হয় এবং ২০২৪ সালের ১০ মার্চ তৎকালীন ভিসি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
কিন্তু পরে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার অজুহাতে একটি পক্ষ নির্মাণে বাধা দেয় এবং ভবনটির স্থানকে একটি প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে আখ্যা দিয়ে কাজ বন্ধ করিয়ে দেয়। এই জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর, টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট কমিটি (টিএমসি) গঠন করা হয়, যেখানে প্রকৌশলী, স্থপতি, উদ্ভিদবিজ্ঞানী, প্রাণীবিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও নগর পরিকল্পনাবিদসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
টিএমসি কমিটি তিনটি বিকল্প স্থান চিহ্নিত করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ক সমীক্ষা পরিচালনা করে। ফলাফল অনুযায়ী, পদার্থবিজ্ঞান ভবনের পশ্চিম পাশে ও লেকচার থিয়েটারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত উন্মুক্ত স্থানটি তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতির কারণেই চূড়ান্ত করা হয়। এরপর বায়োডাইভার্সিটি ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (বিআইএ) কমিটি গঠন করা হয়, যার সভাপতি ছিলেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহ আহমেদ। ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ তারা তাদের চূড়ান্ত রিপোর্টে ভবন নির্মাণের সুপারিশ করেন।
পরবর্তীতে ২৪ জুন ২০২৫, ভিসি অধ্যাপক কামরুল আহসান বিভিন্ন অংশীজনকে নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা আয়োজন করেন। সভায় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের সকল ভবন নির্মাণের কাজ আর বিলম্ব না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ‘গণিত সংসদ’ ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কাজ শুরুর আহ্বান জানায়। প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করলে পুনরায় কিছু ব্যক্তি বাধা প্রদান করেন এবং সামাজিক মাধ্যমে ভিন্ন আঙ্গিকে প্রচার শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা বুঝি গাছ এবং পরিবেশের গুরুত্ব কতটুকু। সেক্ষেত্রে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের সবচেয়ে কম ক্ষতি হবে-এমন স্থানই চূড়ান্ত করা হয়েছে। গাছ কাটার পরবর্তীতে সমালোচনার সৃষ্টি হলে অনুষদের শিক্ষার্থীরা ভিসি স্যারের সাথে কথা বলি, ভিসি স্যার টিএমসির সাথে আলোচনার মাধ্যমে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’



