ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে প্রকাশিত ‘গেস্টরুম-গণরুম: নির্যাতনের দাগ ও খতিয়ান’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জুলাই শহীদ স্মৃতি ভবনের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের সম্পাদনায় প্রকাশিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, গেস্টরুম ও গণরুমে শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নির্যাতনের ইতিহাস অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই ভয় দেখানো, আধিপত্য বিস্তার বা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জায়গা হতে পারে না; এটি জ্ঞানচর্চা, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও নেতৃত্ব বিকাশের নিরাপদ ক্ষেত্র হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো শিক্ষার্থী রাজনৈতিক মত, পরিচয় বা অবস্থানের কারণে নিপীড়নের শিকার হবেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে ডাকসু কাজ করবে।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, গেস্টরুম ও গণরুমের নামে শিক্ষার্থীদের ওপর যে নিপীড়ন চালানো হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার।
তিনি বলেন, অতীতে সংঘটিত এসব ঘটনার সুষ্ঠু নথিবদ্ধকরণ জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ একই ধরনের নির্যাতনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে না পারে। শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় ডাকসু কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে গ্রন্থটির সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘গেস্টরুম-গণরুম: নির্যাতনের দাগ ও খতিয়ান’ শুধু একটি প্রকাশনা নয়; এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, কষ্ট ও নিপীড়নের একটি প্রামাণ্য দলিল।
তিনি বলেন, গেস্টরুম ও গণরুমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নির্যাতনের সংস্কৃতির বাস্তব চিত্র শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বইটিতে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, ভয় ও চাপের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বছরের পর বছর নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেননি। তাদের না-বলা কথাগুলো সামনে আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাসের এই অধ্যায় সংরক্ষণ করাই গ্রন্থটি প্রকাশের অন্যতম উদ্দেশ্য।
মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, এমন একটি ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রত্যয়কে শক্তিশালী করাই এ প্রকাশনার লক্ষ্য, যেখানে কোনো শিক্ষার্থী রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে নির্যাতনের শিকার হবেন না।
গ্রন্থটির সহসম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না, আফসানা আক্তার, রিয়াদুল ইসলাম যুবা, হোসাইন আহমেদ জুবায়ের, রিজওয়ান মানসুরী, আশফাক উল্লাহ আসিফ, সাইমুম ফেরদৌস ও সুহাইল মাহদীন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাতে বইটির সৌজন্য কপি তুলে দেন। এ ছাড়া গেস্টরুম ও গণরুমে ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতনের শিকার কয়েকজন শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
গ্রন্থটির সহসম্পাদক রিয়াদুল ইসলাম যুবার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক ও সিনেট সদস্য আসিফ আব্দুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।



