নোবিপ্রবিতে হলকক্ষ দখলের অভিযোগ ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে

শূন্য হওয়া কক্ষটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবৈধভাবে দখল করে আছেন।

সাজিদ খান, নোবিপ্রবি

Location :

Noakhali
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় |নয়া দিগন্ত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের কক্ষ অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। হল প্রশাসন কক্ষটিতে নতুন শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ দিলেও ছাত্রদল নেতাদের বাধার মুখে তারা রুমে উঠতে পারছেন না বলে জানা গেছে। এর ফলে হলের আবাসন সঙ্কটের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের ৪০২ নম্বর কক্ষে মোট পাঁচজন শিক্ষার্থীকে সিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। তারা হলেন সাগর সাহা, মো: তানভীর হোসাইন রাফি, চয়ন কুরী, প্রিতম মল্লিক ও মুহাম্মদ হাসান। এর মধ্যে সাগর সাহা ও প্রিতম মল্লিকের পড়াশোনা শেষ হওয়ায় গত ২৬ মার্চ তাদের সিট বাতিল হয়। বাকি তিনজনের মধ্যে চয়ন ও রাফি নিয়মিত রুমে না থাকায় গত ৮ এপ্রিল প্রশাসন তাদের সিট বাতিল করে। অন্যজন মুহাম্মদ হাসানও বর্তমানে রুমে থাকেন না।

অভিযোগ ওঠেছে, শূন্য হওয়া এই কক্ষটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবৈধভাবে দখল করে আছেন। তারা হলেন ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট (আইএসএলএম) বিভাগের ১৩তম ব্যাচের মামুন হাসান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শাফিন ইকবাল দিহান, পরিসংখ্যান ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাবের এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০তম ব্যাচের জুবায়ের। এদের মধ্যে মামুন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, দিহান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জাবের ও জুবায়ের সাধারণ কর্মী হিসেবে পরিচিত।

পরে হল প্রশাসন ওই কক্ষে নতুন শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ দেয়। কিন্তু ছাত্রদল নেতাদের বাধার কারণে তারা কক্ষে উঠতে পারছেন না। এর ফলে, নতুন শিক্ষার্থীরা আগের গণরুম ছাড়তে পারছেন না। আবার গণরুমে নতুন সিট পাওয়া শিক্ষার্থীরাও ওঠতে পারছেন না। এতে হলের সিটের চেইন অব কমান্ড ও আবাসন প্রক্রিয়ায় জটলা তৈরি হয়েছে।

বৈধ সিট পেয়েও রুমে উঠতে না পারা এবং গণরুমে আটকে থাকা ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, বিগত দু’মাস আগে সিট বরাদ্দ পাওয়ার পর ৪০২ নম্বর কক্ষে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। রাজনৈতিক জটিলতার কারণে আমাদের ৪০২ নম্বর কক্ষে উঠতে দেয়া হচ্ছে না। কক্ষের দু’টি সিটের মধ্যে একটি খালি হলেও অন্যটি খালি করা হচ্ছিল না। এই বিষয়ে হল অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, বর্তমানে সেখানে যারা অবস্থান করছে তারা সবাই অবৈধ। তবুও তারা সিট খালি করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। পরে হল প্রশাসন থেকে ৫০১ এবং ৫১৫ নম্বর কক্ষে ওঠার নির্দেশ দেয়া হয়।

রুম দখলের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, ‘নোবিপ্রবি ছাত্রদল এখন পর্যন্ত কোনো রুম দখল, হল দখলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না। যারা অ্যালটমেন্ট পেয়েছে তাদেরকে প্রভোস্টের কাছে যেতে বলো। প্রভোস্ট স্যার নিজের দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রদলের কেউ কি স্যারকে বাঁধা দিয়েছে কিনা? এ ধরনের মেন্দা মার্কা, মেরুদণ্ডহীন মার্কা শিক্ষকদের জন্যই আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো দখল হচ্ছে। ৪০২ নম্বর রুমের অ্যালটেড শিক্ষার্থীদের যদি কেউ ওঠতে না দেয় তাহলে হল প্রভোস্টকে বলো যাতে আগামীকাল ৪০২ নাম্বার রুমে রেইড দেয়, ছাত্রদল হোক বা যে দলই হোক তাদের বিরুদ্ধে একশন নেবে। আর এই অভিযোগ আমি প্রথম শুনলাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘৫০% এর অধিক শিক্ষার্থী মালেক হলে অবৈধভাবে থাকে। আমার ছাত্রদলের এমন যদি থেকেও থাকে এই সংখ্যাটা এক থেকে তিনজনের বেশি হবে না। তাদের বিরুদ্ধে একশন নেক, আই হ্যাভ নো প্রবলেম।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: তসলিম মাহমুদ বলেন, ‘আমরা অনেকবার সে রুমে গিয়েছি, তাদেরকে হুশিয়ারিও দিয়েছি কিন্তু তারা তা মানেনি। অন্যত্র তারা শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করতে বলে। যোগাযোগ করলে তারা নানাভাবে টালবাহানা করে। ৪০২ নম্বর রুমের এক অবৈধ আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা দিহানকে রুম খালি করতে বললে সে বলে, ‘বৈধ অবৈধর কি আছে? এই সিটে আমি থাকি। আমি ক্লান্ত আপনার সাথে কথা বলতে পারব না।’ উক্ত রুমে অবস্থান করা মামুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ শিক্ষার্থী তো ননই, সে হলেও অবৈধ।’

তিনি আরো বলেন, ‘ছাত্রদল সভাপতি ফেসবুকে হল দখলের বিরুদ্ধে পোস্ট দেয়। সেই পোস্ট আবার উক্ত রুমে অবৈধভাবে থাকা শিক্ষার্থীরাও শেয়ার করে, ব্যাপারটা হাস্যকর। এছাড়াও ছাত্রদল সভাপতি হলের সিটের বিষয়ে আমার সাথে অসদাচরণ করে কুরবানির বন্ধের আগে। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি কিন্তু তারা এর মিমাংসা করবে বলেও এখনো করেননি।’

অভিযোগের ব্যাপারে ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘এ বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। এটি আমি এখন শুনলাম। হল প্রভোস্ট এ বিষয়টি নিয়ে আসুক, আমি ব্যাবস্থা নেব। সব কিছুই বৈধভাবে হতে হবে। অবৈধভাবে কোনো সুযোগ নেই।’