আধুনিক যুগে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হলো ওয়েবসাইট। কিন্তু গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ওয়েবসাইটে নেই পর্যাপ্ত তথ্য ও নিয়মিত হালনাগাদের ব্যবস্থা। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ওয়েবসাইটে অনেক শিক্ষকের পদবি, গবেষণার তথ্য ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল পুরোনো বা অসম্পূর্ণ থাকায় শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইনমেন্ট, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনুষদ, বিভাগ ও প্রশাসনিক দফতরগুলোর ওয়েবপেজেও নেই নিয়মিত আপডেট ও প্রয়োজনীয় তথ্য।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তথ্যসঙ্কট ও আধুনিকায়নের অভাবে গোবিপ্রবির ওয়েবসাইট কার্যকর তথ্যভাণ্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারছে না। এমনকি আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
অ্যাকাডেমিক ও বিভাগীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতর, নিরাপত্তা শাখা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতর, মেডিক্যাল স্বাস্থ্য শাখা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দফতর, প্রকৌশল দফতর, শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং তথ্য প্রযুক্তি বিভাগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক শাখা। তবে এসব বিভাগের ওয়েবপেজেও একই চিত্র দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতরের ওয়েবপেজে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো বিজ্ঞপ্তি নেই। অথচ দফতরটি থেকে নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রমসংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু তার কোনো প্রতিফলন ওয়েবসাইটে দেখা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের এমন করুণ অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।
অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেক্টর অনেক পিছিয়ে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট সম্পর্কে প্রায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই অবগত নন।’
তিনি আরো বলেন, ‘কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সমৃদ্ধ হতে হয়, যেন ঘরে বসেই একজন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিতে পারে। কিন্তু এ দিক থেকে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পিছিয়ে। তাই আমরা সবাই তথ্যসম্বলিত একটি আধুনিক ও পরিপূর্ণ ওয়েবসাইট চাই।’
এ বিষয়ে আইসিটি সেলের সহকারী পরিচালক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তার ভেতর দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। প্রশাসন যে কোনো তথ্য দিলে আমরা সাথে সাথে আপলোড করার চেষ্টা করি। শিক্ষকদের কাছেও আমরা তথ্য চেয়েছি। আর আমাদের ওয়েবসাইটের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। একটি কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হলে কাজ সম্পন্ন করেনি। আমরা আবার নতুন করে করার জন্য চেষ্টা করছি।’
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: এনামুজ্জামানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



