ইবিতে শহীদ আনাসের চিঠির স্মৃতিফলক উন্মোচন

‘আজকে আনাসকে ছাড়া ৭২৯ দিন। সন্তান হারানোর যে যন্ত্রণা, এটা বাবা-মাই শুধু জানে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার বিচার দৃশ্যমানভাবে এগোয়নি।’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
শহীদ আনাসের চিঠির স্মৃতিফলক উন্মোচন ও জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া
শহীদ আনাসের চিঠির স্মৃতিফলক উন্মোচন ও জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া |নয়া দিগন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মাকে লেখা শেষ চিঠির স্মৃতিফলক স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আনাস হলে ফলকটি উন্মোচন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: ইদ্রিস আলী, শহীদ আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ, নানা সাইদুর রহমান খানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

অনুষ্ঠানে শহীদের আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ বলেন, ‘আজকে আনাসকে ছাড়া ৭২৯ দিন। সন্তান হারানোর যে যন্ত্রণা, এটা বাবা-মাই শুধু জানে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার বিচার দৃশ্যমানভাবে এগোয়নি। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে সন্তানের মৃত্যুতে এমন শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।’

এ সময় তিনি শহীদ ওসমান হাদী হত্যা মামলারও দ্রুত বিচার এবং এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মতিনুর রহমান বলেন, ‘এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর মাধ্যমে এই হলের শিক্ষার্থীরা আনাসের চিঠি পড়ে জানতে পারবে, সে কিভাবে একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। দশম শ্রেণিতে পড়া একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে যে দেশপ্রেমের পরিচয় আমরা এই চিঠিতে দেখেছি, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যতদিন দায়িত্বে থাকবে, ততদিন ৩৬ জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা শহীদ হয়েছেন আল্লাহ তায়ালা তাদের জান্নাতবাসী করুন এবং যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদের ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদের এই চিঠির মূল্যবোধ ধারণ করে আমরা সবাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে পারলে শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে মাকে একটি চিঠি লিখে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার ভাড়া বাসা থেকে বের হয় দশম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাস। সেদিন রাজধানীর চাঁনখারপুলে পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়।