গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস-আনন্দ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার দুপুরে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে এই সমাবর্তনের আয়োজন করা হয়।
এবারের সমাবর্তনে সামার ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের স্প্রিং সেমিস্টার পর্যন্ত স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৫ হাজার ৩৭৫ জন গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি লাভ করেন। পাশাপাশি ৫ জন শিক্ষার্থী চ্যান্সেলর ও ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) পদক অর্জন করেন।
সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস. মুরশিদ। তিনি গ্র্যাজুয়েটদের হাতে ডিগ্রি তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা শারমীন এস. মুরশিদ বলেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান—যুগে যুগে কালজয়ী পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিয়েছে তরুণ প্রজন্ম।
তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্বল্প সময়েই নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, যা সম্ভব হয়েছে সঠিক নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও মান বজায় রাখার মাধ্যমে।
সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্বখ্যাত প্রকৌশল বিজ্ঞানী, গবেষক ও কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকরাম হোসেন। তিনি বলেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক সম্ভাবনার দিকে চোখ খুলে দিয়েছে।
গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জ্ঞানকে মানবিকতায় রূপ দেবেন, ক্ষমতাকে দায়িত্বে পরিণত করবেন এবং সাফল্যকে ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের কল্যাণে কাজে লাগাবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. এম আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রথাগত শিক্ষার মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের খরা, নদীভাঙনসহ নানা সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে সময়োপযোগী ও আধুনিক শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, এখন সমাজ ও দেশকে কিছু দেয়ার সময়।
উত্তরাঞ্চলে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাস্তবতার সাথে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তুলতেই বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো: খাদেমুল ইসলাম মোল্যা বলেন, আন্তবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র সম্প্রসারণ, ইনোভেশন হাব গঠন এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একাডেমিক এক্সচেঞ্জসহ বিভিন্ন কার্যক্রমকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। এখানে অর্জিত জ্ঞান মানবতার কল্যাণে ব্যবহৃত হবে—এটাই আমাদের বিশ্বাস।
এবারের সমাবর্তনে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আল মুক্তাদির মুনেম এবং অর্থনীতি বিভাগের মো: সোহানুর রহমান।
ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অপ্সরা খান, অর্থনীতি বিভাগের শতাব্দী রাণী দাস এবং ফার্মেসি বিভাগের শিখা খাতুন।সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রো-ভিসি, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।



