ভূমিকম্প আতঙ্কে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ রয়েছে। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সকল ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ। এ কারণ উল্লেখ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন-২০২৫-এর নির্বাচনী তফসিলের ক্রম-১১ অনুযায়ী প্রার্থীদের ডোপ টেস্টের কার্যক্রম স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী ২৭ ও ৩০ নভেম্বর প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট করার সিদ্ধান্ত ছিল।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে আসন্ন ২২ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন পেছাতে সুনির্দিষ্ট একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তি নেতারা।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পৃথক স্ট্যাটাসে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
ছাত্রশিবির সভাপতি ও অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচন পেছানোর পাঁয়তারা করছে একটি পক্ষ। নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের দেখানো পথে হাঁটছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঠিক আত্মমর্যাদার প্রশ্ন।’
তিনি দাবি করেন, ‘বছরের পর বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। এখন যখন সব ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার বুঝে নিয়েছে, তখনই একটি পক্ষ নিজেদের স্বার্থে নির্বাচন বন্ধ করার চেষ্টা করছে। এর আগেও নির্বাচন কমিশন একটি পক্ষকে খুশি করতে ২৬ দিন পিছিয়েছে নির্বাচন। শিক্ষার্থীরা এমন অপচেষ্টা রুখে দেবে।‘
এ বিষয়ে শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ তার ফেসবুকে লেখেন, ‘জকসু নির্বাচন কোনো গোষ্ঠীর খেয়াল-খুশির বিষয় নয়, এটা জবিয়ানদের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন। এ নির্বাচনের সাথে আমাদের আত্মমর্যাদা জড়িত। নির্বাচন পেছানোর অপচেষ্টা মানে শিক্ষার্থীদের অধিকার ছিনিয়ে নেয়া এবং শহীদ সাজিদদের আত্মত্যাগের সাথে বেইমানি করা।‘
শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করব না ইনশাআল্লাহ।‘
শেষে তিনি যোগ করেন, ‘অসত্যের কাছে কভু নত নাই করি শির, ভয় কাঁপে কাপুরুষ লড়ে যায় বীর।’
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ও ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী ফয়সাল মুরাদ জকসু নির্বাচন পেছানোর প্রচেষ্টা নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে লেখেন, ‘যে বা যারা ষড়যন্ত্র করছেন, সাবধান হয়ে যান। নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করবেন না।’
তিনি জানান, ‘অনেক কাঠ-খড়ি পুড়িয়ে দিনের পর দিন আন্দোলন করার পর জকসুর নীতিমালা পাশ হয়েছে। এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মমর্যাদার প্রশ্ন। এখানে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। নির্বাচন যথাসময়ে হতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাকে ইচ্ছা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।’
একই প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী শাহিন মিয়া বলেন, ‘একটি দল তাদের নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নির্বাচন পেছানোর পাঁয়তারা করছে। আমরা দেখেছি একটি দল প্রশাসনকে চাপ প্রয়োগ করে আগের ডেট পিছিয়ে ২২ ডিসেম্বর করেছিল। তারা চাচ্ছে কোনো একটা অযুহাত দেখিয়ে জকসু নির্বাচন পিছিয়ে জাতীয় নির্বাচনের পরে নিতে। কমিশনের কাছে দাবি জানাই, ২২ ডিসেম্বরেই নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্নর জন্য।’
স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী রাকিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ডোপ টেস্ট করাবে প্রার্থীদের এখানে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন চাইলেই নির্ধারিত সময়ে ডোপ টেস্ট করাতে পারবে। এছাড়া ডোপ টেস্ট পিছিয়ে দেয়া মানেই নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া যা কোনোভাবেই কাম্য না। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য পরিশ্রম ও খরচ বাড়বে। সেই সাথে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।’
সার্বিক বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির মধ্যে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট করানো সম্ভব নয়। অনেকেই বাড়িতে গেছে। আমরা এ প্রক্রিয়াটি বাকি রেখে বাকি কাজগুলো চলমান রেখেছি। পরিস্থিতির উপর বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে নির্বাচন পিছানো হবে কি না।’



