শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শাবিপ্রবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ

একটি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সরকার ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতর থেকেই একজন বিপ্লবী মানুষের হত্যার বিচার না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

হোসাইন ইকবাল, শাবিপ্রবি

Location :

Sylhet
শাবিপ্রবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ
শাবিপ্রবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ |নয়া দিগন্ত

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বিচার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ শাবিপ্রবি শাখা।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কিলোরোড হয়ে গোলচত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

মিছিল ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘আমি কে, তুমি কে—হাদি হাদি’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেনো বাইরে’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘ওসমান হাদি—আজাদী, আজাদী’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই—হাদি হত্যার বিচার চাই’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের দপ্তর সম্পাদক শুয়াইব আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির আহ্বায়ক হাফিজুল ইসলাম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব হাসান অনু।

সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব হাসান অনু বলেন, ‘শহীদ হাদি জুলাই–জুনের গণঅভ্যুত্থানের একজন সম্মুখসারির নেতৃত্বদানকারী এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রাজপথের লড়াইয়ে সক্রিয় ছিলেন। অথচ সেই আন্দোলনের একজন সাহসী কর্মীর হত্যার বিচার আজও নিশ্চিত না হওয়া চরম লজ্জাজনক।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সরকার ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতর থেকেই একজন বিপ্লবী মানুষের হত্যার বিচার না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।’

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে সহায়তার পরিবর্তে অনেক সময় আন্দোলনের বিপরীতে প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মাহবুব হাসান অনু বলেন, ‘একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তিনি হাদি হত্যার বিচার চান। দেশের প্রতিটি ঘর থেকে যদি বিচার দাবিতে কণ্ঠ ওঠে, তাহলে ইনশাআল্লাহ দেশে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এছাড়া সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি যে চার্জশিট দেয়া হয়েছে, তাতে বহু অসংগতি রয়েছে। এটি একটি সাজানো ও স্ক্রিপ্টভিত্তিক চার্জশিট। এমন একটি ভুয়া চার্জশিট আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘হাদি ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হন, সেদিন প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে প্রয়োজনীয় আন্তরিকতা দেখা যায়নি। হত্যার আগে তিনি শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর সেই জিডিটি রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায়। কাদের ইশারায় এই জিডি গায়েব করা হয়েছে, তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।’

হাফিজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘জিডি গায়েবের সাথে যারা জড়িত, তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’