দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘পরীক্ষা গ্রহণ কমিটি’ গঠন করেছে সরকার।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এ নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব হুরে জান্নাত স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।
আদেশে এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যানকে এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর সংস্থাটির সদস্যকে (পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন) সদস্য সচিব করা হয়েছে। নয় সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিতে শিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ দফতর ও অধিদফতরের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একজন প্রতিনিধি, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের একজন প্রতিনিধি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি (পরিদর্শকের নিচে নয়) এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি (পরিদর্শকের নিচে নয়)।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশটি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল অধিদফতর ও দফতরে অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।
এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, সারাদেশে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ সুপারিশের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের পরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কমিটি একটি মিটিং করেছে।
তিনি জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সুপারসহ ১৩ হাজার ৫৯৯টি প্রশাসনিক পদে ‘অষ্টম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬’-এর অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
এনটিআরসিএ’র তথ্য অনুযায়ী, মাউশির স্কুল ও কলেজে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে মোট শূন্যপদ ১০ হাজার ২৭৮টি। এরমধ্যে স্নাতক (পাস) কলেজে অধ্যক্ষ ৫৮৪, উপাধ্যক্ষ ৬২৭টি। উচ্চমাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ পদে শূন্যপদ রয়েছে ৭৬৮টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ তিন হাজার ৯২৩টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ তিন হাজার ৮৭২টি। এছাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ ৫০৪টি।
এনটিআরসিএ আরো জানিয়েছে, মাদরাসা অধিদফতরের আওতাধীন কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষের শূন্যপদ ৩৪টি এবং উপাধ্যক্ষ পদে শূন্য রয়েছে ৫৩টি। ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ পদ ২০২টি, ফাজিলের উপাধ্যক্ষ পদ ৩৪৩টি, আলিমের অধ্যক্ষ পদ শূন্য ২১৯টি, উপাধ্যক্ষ পদ ৩৭৭টি। এছাড়া দাখিল মাদরাসায় সুপার পদ শূন্য ৮৯১টি এবং সহকারী সুপারের এক হাজার চারটি শূন্যপদ রয়েছে। সবমিলিয়ে মাদরাসায় অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারের শূন্যপদ তিন হাজার ১৩১টি।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীন ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য অধ্যক্ষ পদ ১১০টি, ভোকেশনালে শূন্য সুপার পদ ৪০টি এবং সহকারী সুপার ৪০টি। সবমিলিয়ে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদ শূন্য ১৯০টি বলে জানায় এনটিআরসিএ। বাসস



