ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

নিজ বিভাগের শিক্ষককে সভাপতি নিয়োগের দাবিতে ভবনে তালা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি হিসেবে নিজ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

Location :

Kushtia
ইবিতে নিজ বিভাগের শিক্ষককে সভাপতি নিয়োগের দাবিতে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে তালা
ইবিতে নিজ বিভাগের শিক্ষককে সভাপতি নিয়োগের দাবিতে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে তালা |নয়া দিগন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি হিসেবে নিজ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখেন তারা। এতে অনুষদের ছয়টি বিভাগের ক্লাস ও দাফতরিক কাজ স্থবির হয়ে পড়ে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মার্কেটিং বিভাগে সভাপতি হওয়ার মতো শিক্ষক থাকার পরও অন্য বিভাগ থেকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়াকে বিভাগটির সভাপতি করা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে তারা এ আন্দোলন শুরু করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টরের আশ্বাসে ভবনের তালা খুলে দেয়া হয়। এরপর বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমানের সাথে দেখা করে তাদের দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মার্কেটিং বিভাগে বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন—তিনজন সহকারী অধ্যাপক এবং দুইজন প্রভাষক। তাদের মধ্যে একজন আগে বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আরেকজনের সভাপতির মেয়াদ ১৭ আগস্ট শেষ হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাকি তিনজনের মধ্যে থেকে সভাপতি নিয়োগ দেয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলায় তাকে এখন সভাপতি করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে সভাপতি নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় উল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী, বিভাগীয় শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সভাপতি নিয়োগ দেয়া হয় এবং পরে আবর্তনের (রোটেশন) মাধ্যমে অন্য শিক্ষকদেরও এ দায়িত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া বিভাগে সভাপতি হওয়ার মতো কোনো শিক্ষক না থাকলে বর্তমান সভাপতিকে আবারো দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। তবে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নিতে রাজি না হলে বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনকে দায়িত্ব দেয়ার বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান বলেন, ‘সদ্য সাবেক সভাপতির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ডিনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সাধারণত রোটেশন ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিভাগীয় সভাপতি নিয়োগ দেয়া হয়। এখন যার সভাপতি হওয়ার কথা, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁর নামও এসেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে ৪৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় আপাতত বিভাগের ওই শিক্ষককে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তবে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তিনি যথারীতি বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব পাবেন। তখন ডিনকে আর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে না।’