খুবি প্রতিনিধি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ক্যাম্পাস। তার পরিকল্পিত হত্যার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি খান জাহান আলী হল এলাকা থেকে শুরু হয়ে হাদি চত্বর জিরো পয়েন্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেইন গেটের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা—
‘তুমি কে, আমি কে? হাদি, হাদি’,
‘দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’,
‘হাদি ভাই কবরে, খুনি কেন ভারতে?’,
‘ভারতীয় আধিপত্য ভেঙে দাও’,
‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’
সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী ফারদিন দিপন বলেন, ‘খুনিদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার শুধু মুখে নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন চাই। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরও সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী মুরসালিন বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ নানা আগ্রাসনের শিকার। শরীফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কেউ যদি বাংলাদেশকে অন্য দেশের কলোনিতে পরিণত করতে চায়, তবে দেশের যুবসমাজ তা কখনো মেনে নেবে না।’
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। গত শুক্রবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাজধানীর পুরান পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে শরীফ ওসমান হাদি মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানানো হয়।



