যবিপ্রবিতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স

কনফারেন্সে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তানের ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউইটি) কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উসমান গণি খান।

Location :

Jashore
যবিপ্রবিতে টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অতিথিরা
যবিপ্রবিতে টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অতিথিরা |নয়া দিগন্ত

যবিপ্রবি সংবাদদাতা
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ভিসি অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেছেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনই টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। যুদ্ধ, বৈশ্বিক অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি অনিরাপত্তা ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার মতো বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় কেবল নীতিনির্ধারণী আলোচনা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন।

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে যবিপ্রবির জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত “ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট” শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কনফারেন্সে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

ভিসি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সাথে টেকসই পদ্ধতির সমন্বয় এখন আর বিকল্প নয়, বরং ভবিষ্যৎ ও মানবতার জন্য অপরিহার্য। অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট কৃষি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও টেকসই পরিবহনের মতো ক্ষেত্রগুলোতে প্রকৌশলগত উদ্ভাবন সমাজকে দ্রুত পরিবর্তন করছে। তবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অবশ্যই নৈতিক দায়বদ্ধতা, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক সমতার ভিত্তিতে হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। পরিবেশ রক্ষা, মানবকল্যাণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধ ও বৈশ্বিক সচেতনতা সম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

কনফারেন্সে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তানের ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউইটি) কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উসমান গণি খান।

তিনি “ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট” বিষয়ে গবেষণালব্ধ তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। এছাড়া ভার্চুয়ালি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ডের প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম আহমেদ।

বক্তারা টেকসই উন্নয়নভিত্তিক গবেষণার বৈশ্বিক গুরুত্ব এবং শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তারা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর পোস্টার প্রেজেন্টেশন ও টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘটে।

অনুষ্ঠানে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইমরান খান আহ্বায়ক হিসেবে বক্তব্য দেন। এছাড়া কো-কনভেনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এইচ এম জাকির হোসেন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. কামরুল ইসলাম এবং কনফারেন্সের সেক্রেটারি ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

কনফারেন্সে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক জাহেদুল ইসলাম এবং বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক আনিকা আনজুম।