বিশ্বব্যাপী বৈজ্ঞানিক গবেষণার মান ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডাটাবেজ স্কোপাস। গবেষকদের গবেষণাপত্র মানসম্মত জার্নালে প্রকাশনার ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছর র্যাংকিং প্রকাশ করে থাকে স্কোপাস ইনডেক্স জার্নাল।
এ বছর জানুয়ারিতে প্রকাশিত র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সেরা গবেষক হিসেবে ১০ জন গবেষকের নাম প্রকাশিত হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: গোলজার হোসেন একথা জানিয়েছেন।
২০২৫ সালে মানসম্মত জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যার ভিত্তিতে তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাকৃবির নয়জন শিক্ষক ও একজন সাবেক শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালেও ছিলেন নয়জন শিক্ষক ও একজন সাবেক শিক্ষার্থী।
এছর নতুন করে স্থান করে নিয়েছেন চারজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থী।
জানা যায়, স্কোপাস ও ওয়েব অব সায়েন্স মূলত বৈজ্ঞানিক জার্নালগুলোর গুণগত মান যাচাই করে সেগুলোকে ইনডেক্সভুক্ত করে। এসব ডাটাবেজে প্রকাশিত গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোপাস ডাটাবেজে প্রতিটি গবেষকের জন্য একটি স্বতন্ত্র স্কোপাস আইডি তৈরি করা হয়, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বছরে একজন গবেষকের প্রকাশনা ও গবেষণা কার্যক্রমের নির্ভরযোগ্য তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
স্কোপাস ডাটাবেজের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে বাকৃবির সেরা ১০ গবেষক হলেন, অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, এগ্রিবিজনেস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: গোলজার হোসেন, এগ্রিকালচারাল ইকোনমিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসমত আরা বেগম, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: তানভীর রহমান, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুকুমার সাহা, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান, ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিভাগের অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা এবং ইরিগেশন অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম আদহাম ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: তৌহিদুল ইসলাম।
বৈজ্ঞানিক গবেষণার মান নির্ধারণে স্কোপাস ও ওয়েব অব সায়েন্স বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য দুটি নাম। এখানে ইনডেক্সভুক্ত হওয়া মানে একটি গবেষণার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া। স্কোপাসে প্রতিটি গবেষকের জন্য তৈরি হয় একটি স্বতন্ত্র স্কোপাস অথোর আইডি (Scopus Author ID) যার ভেতরে সংরক্ষিত থাকে তার গবেষণা জীবনের প্রায় সব পরিসংখ্যান। যেমন কতটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, কতবার উদ্ধৃত হয়েছে, গবেষণার প্রভাব কতটা বিস্তৃত ইত্যাদি।
এই তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের ফলেই প্রতিবছর নির্ধারিত হয় গবেষকদের অবস্থান। ২০২৫ সালে সেই মানদণ্ডে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন গবেষক।
এই তালিকায় যেমন রয়েছে ল্যাবভিত্তিক মাইক্রোবায়োলজি গবেষণা তেমনি মাঠপর্যায়ের কৃষি অর্থনীতি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা, অ্যাকুয়াকালচার এবং কৃষিযন্ত্র উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। যা প্রমাণ করে বাকৃবির গবেষণা শুধু একটি শাখায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি বিস্তৃত, বহুমুখী এবং সময়োপযোগী।
বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং সিস্টেমে বিশেষ করে কিউএস ও টাইমস হাইয়ার এডুকেশনের (টিএইচই) র্যাঙ্কিংয়ের জন্য স্কোপাস–ইনডেক্সড গবেষণাপত্রের সংখ্যা ও মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক। অনেক ক্ষেত্রে মোট স্কোরের অর্ধেকেরও বেশি তথ্য সরাসরি স্কোপাস ডাটাবেজ থেকে নেয়া হয়।
সে অর্থে এই ১০ জন গবেষক শুধু নিজ নিজ বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করছেন না। তারা বহন করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক পরিচয়ের ভার। একই সাথে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নিরলসভাবে কাজ করছে তারা। তাদের গবেষণাই বাকৃবির নাম তুলে ধরছে বৈশ্বিক গবেষণার মানচিত্রে।
গবেষণা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পর্যাপ্ত গবেষণা অনুদান, আধুনিক গবেষণাগার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা গেলে ভবিষ্যতে বাকৃবির গবেষণা অর্জন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। এই সাফল্য তরুণ শিক্ষার্থী ও নবীন গবেষকদের জন্য প্রেরণার বাতিঘর হয়ে উঠবে। যেখানে নীরব সাধনাই একদিন বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াবে।



