সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

কল্যাণ ট্রাস্টে বছরে ঘাটতি ১৫৬ কোটি টাকা, অপেক্ষায় ৪৪ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতনের ৪ শতাংশ চাঁদা এবং বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার মাধ্যমে ট্রাস্ট পরিচালিত হয়।

সংসদ প্রতিবেদক
শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন
শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন |ফাইল ছবি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে প্রতিবছর প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার আর্থিক ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এই ঘাটতির কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা ও অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি আরো জানান, বিদ্যমান সরকারি ও এমপিওভুক্ত মাদরাসাগুলোর পাঠ্যক্রম, শিক্ষার মান এবং সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে মাদরাসা সরকারিকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: গোলাম রসুলের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ১৯৯০’ এবং ‘প্রবিধানমালা, ১৯৯৯’ অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতনের ৪ শতাংশ চাঁদা এবং বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার মাধ্যমে ট্রাস্ট পরিচালিত হয়।’

তিনি জানান, বর্তমানে কল্যাণ ট্রাস্টের বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৬৮৪ কোটি টাকা। বিপরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা প্রদানের জন্য বছরে প্রয়োজন হয় প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রতিবছর প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধির কারণে ট্রাস্টের আর্থিক দায়ও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য এককালীন প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন। তবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য সুবিধা দ্রুত প্রদানের লক্ষ্যে সরকার ও কল্যাণ ট্রাস্ট বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইতোমধ্যে ৯ হাজার ২৮৪ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে ৫৫৩ কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৪ টাকা কল্যাণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জমা পড়া সব আবেদন নিষ্পত্তি করে আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হয়েছে। ২০২৩ সালের জুন ও জুলাই পর্যন্ত জমা হওয়া আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি সম্পন্ন করে অর্থ পরিশোধের প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। বকেয়া আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশে ৮ হাজার ২২৯টি এমপিওভুক্ত মাদরাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ বেতন-ভাতা সরকার নিয়মিত প্রদান করছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ১ লাখ ৯১ হাজার ২৩১ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে বেতন-ভাতা দেয়া হয়েছে। এছাড়া পরিচালন বাজেট ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাদরাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

মাদরাসাশিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে মাদরাসাগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে মাদরাসার পাঠ্যক্রমে পেশাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদরাসাশিক্ষা বিভাগ গঠিত একটি কমিটি ইতোমধ্যে মাদরাসার কারিকুলাম আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে। এছাড়া বিদ্যমান সরকারি ও এমপিওভুক্ত মাদরাসাগুলোর পাঠ্যক্রম, শিক্ষার মান এবং সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে মাদরাসা সরকারিকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।