কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধায় বছরে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হলেও কমছে না তাদের দুর্ভোগ। ভাড়ায় পরিচালিত বাসের ফিটনেস, ব্রেক, আসন ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি রুট ও সময়সূচি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। এসব সমস্যার সমাধানে পরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণসহ তিন দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ঢাকামুখী বাস ঢাকা পর্যন্ত চালু করা, ক্যাম্পাস-মহাখালী রুট চালু করা এবং রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্যাম্পাসে ফেরার বাস চালু করা। একই সাথে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিবহন খাতে প্রতি মাসে প্রায় ২২ থেকে ২৪ লাখ টাকা এবং প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ৯টি এবং ভাড়ায় পরিচালিত ৮টি বাস রয়েছে।
তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও বাসের মান নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বেশ কয়েকটি ভাড়ায় পরিচালিত বাসের আসন ভাঙাচোরা ও অপরিচ্ছন্ন। বিভিন্ন স্থানে ছারপোকার উপদ্রব রয়েছে। পাশাপাশি বাসের ব্রেকিং ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ময়মনসিংহ শহরের টাউন হল মোড়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি ভাড়ায় পরিচালিত বাসের ব্রেক হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। চালক কৌশলে গতি কমিয়ে আনেন। পরে হেলপার চাকার নিচে ইট দিয়ে বাসটি থামালে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারহানা মিম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। প্রায়ই বাসের ব্রেকিং ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়। মাঝপথে বাস বিকল হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় ক্লাস ও পরীক্ষায় সময়মতো অংশ নেয়া সম্ভব হয় না।’
আরেক শিক্ষার্থী তৌফিক হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস হলেও এগুলোর অবস্থা অনেকটা লোকাল বাসের মতো।’ বাসের বিভিন্ন স্থানে ছারপোকার উপদ্রব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে ঢাকামুখী বাস নিয়েও শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ রয়েছে। বর্তমানে বাসটি গাজীপুর পর্যন্ত চলাচল করায় চাকরির পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ঢাকায় যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নতুন বাস কেনা হলে পরিবহন সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী রুট ও সময়সূচি পুনর্বিন্যাসেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের সহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) মো: আল-আমিন বলেন, ‘ভাড়ায় পরিচালিত বাসগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের। কোনো বাস নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা পরিবহন প্রশাসককে জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।’
পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ২০১৯ সালের পর থেকে সরকারিভাবে নতুন গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় দরপত্রের (টেন্ডার) মাধ্যমে ভালো মানের বাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান খোঁজা হলেও নির্ধারিত শর্ত ও ভাড়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাচ্ছে না।’
এ বিষয়ে ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াতের বাস-সঙ্কট রয়েছে। এই সঙ্কটকালীন মুহূর্তে নতুন করে আরও বাস দেয়া আদৌ কতটুকু সম্ভব, তা আমার জানা নেই।’
তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে আমাদের গাড়ি কেনার কোনো অনুমতি নেই। তারপরও আমরা সার্বিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে পরিবহন প্রশাসনের সাথে আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’


