পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেমিক্যাল সোসাইটির রসায়ন বিভাগের উদ্যোগে ‘১৫ তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পতাকা উত্তোলন শেষে র্যালি শুরু হয় যা যথাক্রমে প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও স্বাধীনতা চত্বরে প্রদক্ষিণ করে অ্যাকাডেমিক ভবন-২ এর সামনে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন হলে পরীক্ষাদের জন্য সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে পরীক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক বিকাশের সুযোগ পায়। পরীক্ষার্থীরা ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে পরিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: শামীম আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আহসান হাবিব, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: ফজলুল হক, জীব ও ভূবিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, অধ্যাপক রসান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক রতন কুমার পালসহ রসায়ন বিভাগের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা। আরো উপস্থিত ছিলেন এই অঞ্চলের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণকরি শিক্ষার্থীরা।
পরীক্ষা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন অথিতিবৃন্দ। সে সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তোমরা অনেকে এখানে পরীক্ষা দিয়েছো। তার মধ্যে থেকে অনেকেই বিজয়ী হয়েছ, আবার অনেকে হওনি। কিন্তু বড় ব্যাপার হলো তুমি তোমার সাহস নিয়ে একটা বড় কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করেছে। আমি বিশ্বাস করি তোমাদের এই সাফল্য তোমাদের আরো অনেক দূর নিয়ে যাবে, দৈনন্দিন জীবনে রসায়নের যে ভূমিকা সেগুলো শিখতে পারলে।’
তিনি সকলের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক রতন কুমার পাল বলেন, ‘আজ সারা বাংলাদেশে রসায়ন সমিতির আয়োজনে ১৫তম রসায়ন অলিম্পিয়াড পাবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যারা অংশগ্রহণ করেছ সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। এই আয়োজনের সাথে জড়িত সকলকে ধন্যবাদ জানাই। এই পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রসায়নের প্রতি যে ভীতি তা দূর হবে বলে আশা করি। শিক্ষার্থীদের প্রতি বলব রসায়নের প্রতি ভীতি নয় বুঝে বুঝে মজা করে পড়তে হবে। রসায়ন মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এই অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রসায়নের গুরুত্ব অনুধাবন করবে, শিক্ষা ও গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হবে এবং মানবজাতির কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়নভীতি দূর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’



