নির্বাচনের আগে শেকৃবিতে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে স্বজনপ্রীতি, বিজ্ঞাপিত পদের অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়োগ, আর্থিক দুর্নীতি এবং ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় |সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) বিভিন্ন পদে বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে গত ডিসেম্বর মাসে নিয়োগকৃত বেশ পদের অনিয়মের বিষয়ে আপত্তি আসায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একইসাথে চলমান ও সাম্প্রতিক নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এগ্রিকালচারিস্টস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)। এরই মধ্যে সংগঠনটি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি রোববার অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা স্থগিত রাখার জোর দাবি জানিয়েছে।

ইতোমধ্যে এ বিষয়ে এ্যাবের পক্ষ থেকে শেকৃবির ভিসি বরাবর পাঠানো এক স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গত ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে যেসব নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে স্বজনপ্রীতি, বিজ্ঞাপিত পদের অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়োগ, আর্থিক দুর্নীতি এবং ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন।

স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, এসব গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত শেষ না করেই মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করায় সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দৃশ্যমান হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের বিতর্কিত কার্যক্রম আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নেতিবাচক জনমত সৃষ্টি করতে পারে এবং ভোটের মাঠে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তারা মনে করেন, এটি জুলাই চেতনারও পরিপন্থী। সংগঠনটির আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার এবং সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিগত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো নিয়োগ কার্যক্রম গ্রহণ করা উচিত নয়। সে কারণেই ৭ ফেব্রুয়ারির সিন্ডিকেট সভা স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।