দেশে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

‘আমাদের শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। আমাদের বরাদ্দকৃত অর্থ অপচয় না করে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে দেশ উন্নতির দিকে ধাবিত হবে।’

যবিপ্রবি প্রতিনিধি
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সম্মেলন-২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সম্মেলন-২০২৬ |নয়া দিগন্ত

দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সম্মেলন-২০২৬, খুলনা অঞ্চল’। শনিবার (২৫ এপ্রিল) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ডিএসডব্লিউ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত খুলনা অঞ্চলের পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৩০ জন শিক্ষক এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের। তবে অনিবার্য কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন কুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইমরান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুয়েটের অধ্যাপক ড. মো: শাহজাহান আলী।

মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: হারুনুর রশীদ ও গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: সোহেল হাসান।

যবিপ্রবি ভিসি অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। আমাদের বরাদ্দকৃত অর্থ অপচয় না করে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে দেশ উন্নতির দিকে ধাবিত হবে। প্রভাবশালী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্যাক্স কমিয়ে তাদের একটা নির্দিষ্ট অংশ গবেষণার খাতে বিনিয়োগ করলে আমাদের শিক্ষা ও গবেষণা বহুদূর এগিয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের শিক্ষকরা গবেষণায় অনেক কম বরাদ্দ পান এবং সেই অর্থ অনেক জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের উচিত সীমিত বাজেটের প্রজেক্ট সংখ্যা না বাড়িয়ে পর্যাপ্ত বাজেটের একটি প্রজেক্ট হাতে নেয়া এবং তা সফল করা। আমাদের শিক্ষকরা আমাদের দেশের জিডিপির অনুপাতে অনেক কম বেতন পান, এদিকে সরকারের সদয় দৃষ্টি রাখা দরকার। তবে বর্তমানে আমাদের শিক্ষকরা শিক্ষা ও গবেষণা খাতে ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাচ্ছেন, যা পূর্বে ছিল অকল্পনীয়। বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণা খাতকে উন্নত করতে পারলে দেশ ও জাতির উন্নতি হবে।’

সম্মেলনে বক্তারা দেশের উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য যুগোপযোগী স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রণয়ন, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস।

এছাড়া শিক্ষকদের অবসরের বয়স ৬৭ বছরে উন্নীত করা, মেধাবী শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা চালু করা, শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ পাঁচ শতাংশের ওপরে রাখা এবং একটি উচ্চ শিক্ষা কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরো বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত মেধাবী শিক্ষক ও গবেষকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

সম্মেলনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো: ফারুক হোসেন।