ডাকসুর উদ্যোগে শহীদ ফেলানীকে নিয়ে স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

স্মারক গ্রন্থটিতে ফেলানীর বাবা-মায়ের বক্তব্যের পাশাপাশি গবেষক, তরুণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ফেলানীর ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নীতির বাস্তবতাও তুলে ধরা হয়েছে।

ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থ ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা শহীদ ফেলানী’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ডাকসুর সভাকক্ষে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন স্মারক গ্রন্থের সম্পাদক ও ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম ফরহাদ বলেন, ফেলানী হত্যাকাণ্ডের পর বিচারের পরিবর্তে হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেয়ার জন্য আত্মরক্ষার নানা গল্প তৈরি করা হয়েছে। বিচারের নামে প্রক্রিয়া চললেও প্রকৃত শাস্তি নিশ্চিত হয়নি।

তিনি বলেন, স্মারক গ্রন্থটিতে ফেলানীর বাবা-মায়ের বক্তব্যের পাশাপাশি গবেষক, তরুণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ফেলানীর ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নীতির বাস্তবতাও তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ফেলানী আর নেই, কিন্তু যে কাঠামো ও মানসিকতা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো রয়ে গেছে। তাই সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন মাধ্যমে ফেলানীর কথা বারবার তুলে ধরতে হবে। তাকে নিয়ে লেখা, গল্প ও চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে স্মৃতিকে জীবিত রাখতে হবে।

ডাকসুর এ উদ্যোগকে ইতিহাস সংরক্ষণের প্রচেষ্টা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নথিবদ্ধ করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে কী ঘটেছিল এবং এ স্মৃতি থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি পাবে। আমরা চাই, আর কোনো ফেলানী যেন হত্যার শিকার হয়ে বইয়ের পাতায় ফিরে না আসে।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে স্মারক গ্রন্থের সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ফেলানীর স্মৃতিকে স্থায়ী রূপ দিতে এবং একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী চিঠি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রায় দুই শতাধিক চিঠির মধ্য থেকে বাছাই করা ১৩টি চিঠি স্মারক গ্রন্থে স্থান পেয়েছে।

তিনি স্মারক গ্রন্থটি পাঠকদের পড়ার আহ্বান জানান এবং এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

স্মারক গ্রন্থের সহসম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন সাবিকুন্নাহার তামান্না, আফসানা আক্তার, সানজিদা আক্তার শ্রেয়সী, রিয়াদুল ইসলাম যুবা, রিজওয়ান যুবরান মানসুরী, সায়মুম ফেরদৌস, আশফাকউল্লাহ আসিফ ও সুহাইল মাহদিন প্রমুখ।

স্মারক গ্রন্থের সহসম্পাদক রিয়াদুল ইসলাম যুবার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, সমাজসেবা সম্পাদক এ বি যুবায়ের, বিজয় একাত্তর হল সংসদের ভিপি হাসান আল বান্না, কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ও স্মারক গ্রন্থের সহসম্পাদক সানজিদা আক্তার শ্রেয়সী, সহসম্পাদক আশফাকউল্লাহ আসিফ ও সায়মুম ফেরদৌসসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।