বেরোবি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক

হাদির শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের কবর রচিত হয়েছে

জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যারা সুশীলতা করার চেষ্টা করছেন, মব বলে ফ্যাসিবাদ এবং অন্যায়কে জায়েজ করার অপচেষ্টা করছেন— হাদির মৃত্যু তাদের জন্য অ্যালার্মিং।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
বেরোবিতে বিক্ষোভ
বেরোবিতে বিক্ষোভ |নয়া দিগন্ত

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় বলেছেন, ‘হাদির শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের কবর রচিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবীদের কর্মকাণ্ডকে মব বলে যারা সুশীলতা করবেন, তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও আওয়ামী লীগের দালাল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরাও মব মব বলে সুশীলতা করার চেষ্টা করেছেন। এসব বরদাস্ত করা হবে না। জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনতে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যারা সুশীলতা করার চেষ্টা করছেন, মব বলে ফ্যাসিবাদ এবং অন্যায়কে জায়েজ করার অপচেষ্টা করছেন, হাদির মৃত্যু তাদের জন্য অ্যালার্মিং।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ১টায় রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় সেখানে আরো বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রহমত আলী, আশিকুর রহমান, শামসুর রহমান সুমন, মোহাম্মদ ইয়ামিন প্রমুখ।

এর আগে রাত সোয়া ১১টার দিকে হলগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা বের হয়ে মিডিয়া চত্বরে এসে জমা হয়। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে প্রধান ফটকে আসলে সেখানে যোগ দেন আশেপাশের ছাত্রাবাসগুলোতে থাকা শত শত শিক্ষার্থী।

‘তুমি কে আমি কে, হাদি-হাদি’, ‘তুমি আমি হাদি হব, গুলির মুখে কথা কবো’ স্লোগানে মিছিল এগোতে থাকে। পার্কের মোড়, শহীদ আবু সাঈদ চত্বর হয়ে মিছিল যায় মডান মোড়ে। সেখানে ১০ মিনিট অবরোধের পর আবারো মিছিল ফিরে যায় ক্যাম্পাসের দিকে। প্রধান ফটোকে অপেক্ষমান আরো শিক্ষার্থীরা যোগ দেন বিক্ষোভে। এরপর বিক্ষোভ এগিয়ে চলে লালবাগের দিকে। লালবাগে ওই বিক্ষোভে অংশ নেন কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও। মিছিল যতই নগরীর দিকে এগোতে থাকে ততোই লালবাগ, কলেজ পাড়া, কলেজ রোড এলাকার ছাত্রাবাসগুলো থেকে স্রোতের মতো শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। মূহুর্তেই হাজার হাজার শিক্ষার্থীর বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে রংপুর। ‘তুমি কে আমি কে হাদি হাদি’, ‘তুমি আমি হাদি হবো, গুলির মুখে কথা কবো’ স্লোগানের ধ্বনী জাগিয়ে তোলে ঘুমন্ত নগরবাসীকে। পরে শাপলা চত্বরে গিয়ে অবরোধ গড়ে তোলেন শিক্ষার্থীরা।

রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শাপলা চত্বর অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা। এ সময় সেখানেও বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থীদের কয়েকজন। পরে আবারো বিক্ষোভ নিয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হয় শিক্ষার্থীরা। পথিমধ্যে খামার মোড়ে দু’টি লাঙ্গল প্রতীক গুড়িয়ে দেন তারা।

পরে পার্কের মোড়ের শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে ঘুরে প্রধান ফটকের সামনে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে আসা মাত্রই তাদের সাথে যোগ দেন ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ইলিয়াস প্রামানিকের নেতৃত্বে বেশ কিছু শিক্ষক। সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদেরকে হলে এবং মেসে ফিরিয়ে দিয়ে তারা ক্যাম্পাসে ঢোকেন।

সমাবেশে বিক্ষোপকারীদের দাবি, ২৪ -এর জুলাই বিপ্লবীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ইন্টেরিম সরকার। অথচ বিপ্লবীদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এ সরকার। অবিলম্বে ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, ভারত থেকে হাদির খুনিদের ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা না হলে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। একই সাথে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে যারাই সুশীলতা দেখানোর চেষ্টা করবে তারা যে পেশারই হোন না কেনো তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অ্যাকশনে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারীরা।