শাকসু নির্বাচন স্থগিত

শাবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনে তালা, সাড়ে ৯ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ ভিসি

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১–এর প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। ভবনের ভেতরে ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: সাজেদুল করিম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো: ইসমাইল হোসেন ও রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরসহ ভবনে কর্মরত কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

হোসাইন ইকবাল, শাবিপ্রবি
এখনো অবরুদ্ধ ভিসি, বাইরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা
এখনো অবরুদ্ধ ভিসি, বাইরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা |নয়া দিগন্ত

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এর অংশ হিসেবে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা ধরে নিজ নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ভিসিসহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন-১–এ তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১–এর প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। ভবনের ভেতরে ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: সাজেদুল করিম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো: ইসমাইল হোসেন ও রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরসহ ভবনে কর্মরত কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আদালতে করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করেন। পরে সেখান থেকে সরে এসে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং ভবনে তালা দেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শাকসু নির্বাচন একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।

এদিকে ছাত্রদল ছাড়া অন্য প্যানেলগুলো থেকে একটি প্রতিনিধি দল ভিসিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসার জন্য প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেছেন। বাইরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।