ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
শিক্ষক নিয়োগ ঠেকাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে ‘অপহরণের’ অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে অংশ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার জন্য ঝিনাইদহ শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার বাসা থেকে বের হলে এ ঘটনা ঘটে।
তবে পরবর্তীতে শিক্ষক শরিফুল ফেসবুক লাইভে জানায় শাহেদ তাকে অপহরণ করেনি। তিনি নিরাপদ আছেন। লাইভটি সাহেদ নিজেই রেকর্ড করে। অভিযোগ রয়েছে, চাপের মুখে ওই শিক্ষক লাইভটি করতে বাধ্য হয়।
সূত্র জানায়, সকাল ৯ টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার জন্য বের হন শরিফুল ইসলাম জুয়েল। বাসার নিচে থেকেই ছাত্রদল আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ মোটরসাইকেলে করে তাকে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহরণের সময়ের একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়। যেখানে দেখা যায়, ছাত্রদল আহ্বায়ক মোটরসাইকেলে করে ওই শিক্ষককে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
এরপর থেকেই অপহরণ হওয়া শিক্ষকের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মী ও পরিবার। সকাল ১০টার মধ্যে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় সাংবাদিকরা সাহেদের সাথে যোগাযোগ করে শরিফুল ইসলামের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। অথচ পরবর্তীতে বেলা পৌনে ১টার দিকে শরিফুল ইসলামকে তার বাসায় দিয়ে যান সাহেদ।
শরিফুল ইসলামের ছোট ভাই বলেন, “সকালে ভাইয়া অসুস্থ থাকায় প্রথমে বোর্ডে যেতে চাননি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা কল দিয়ে গাড়ি পাঠানোর কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর দেখি ভাইয়া নিচে নামতেই একটি মোটরসাইকেল এসে দাঁড়ায়। আমরা ভেবেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি এসেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িচালক হাসমত কল দিয়ে ভাইয়ার অবস্থান জানতে চাইলে বুঝতে পারি কিছু একটা গড়বড় হয়েছে। এরপর থেকে ভাইয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিলো।”
বাসায় আসার পর শরিফুল ইসলাম জুয়েল ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিলো, এখন আমি বাসায় আছি। নিরাপদে আছি।
অপহরণের অভিযোগ অস্বীকার করে ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, “ট্যুরিজম বিভাগের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জুয়েল সকালে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তিনি নিজেই আমাকে ফোন করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। আমি তাকে নিরাপত্তার জন্য সঙ্গে নেই। তিনি বর্তমানে ঝিনাইদহের নিজ বাসায় আছেন। প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার তাকে হুমকি দিচ্ছিলেন এবং বিভাগের কয়েকজন শিক্ষককে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমি তাকে সঙ্গ দিয়েছি।”
এছাড়া ফেসবুক লাইভে এসে সাহেদ আহম্মেদ অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা ট্যুরিজম বিভাগের সভাপতিকে হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া বিভাগের সকল শিক্ষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেছিলেন। এজন্য তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।
এদিকে এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদিন বিকেলে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অপহৃত শিক্ষক শরিফুল ইসলামকে ক্যাম্পাসে হাজির করে নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ পাঁচ দফা দাবি জানান তারা। শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলো হলো শাপলা ফোরাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদসহ আওয়ামীপন্থী সকল সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু , আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে অপহরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত, দুর্নীতির শ্বেতপত্র আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রকাশ করতে হবে।
এবিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।” প্রক্টরের বিরুদ্ধে ছাত্রদল আহ্বায়কের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই মিথ্যাচারের বিষয়ে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেবো।”



