আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় পক্ষপাতমূলক বিচার ও খেলোয়াড় হেনস্থার নিন্দা

ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদকদের বিবৃতি

প্রতিযোগিতাটি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মনোভাব ও ক্রীড়া প্রতিভার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয়েছে এক হতাশাজনক ও কলঙ্কজনক অভিজ্ঞতায়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রতীকী ছবি

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় পক্ষপাতমূলক বিচার, খেলোয়াড় আটকে রাখা ও হেনস্থার অভিযোগ এনে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ- ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসু ও জকসু’র ক্রীড়া সম্পাদকরা।

শুক্রবার (৮ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ৪ মে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্স ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা ২০২৫-২৬। বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এই প্রতিযোগিতাটি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মনোভাব ও ক্রীড়া প্রতিভার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয়েছে এক হতাশাজনক ও কলঙ্কজনক অভিজ্ঞতায়।

প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই আয়োজন জুড়ে ছিল মারাত্মক অব্যবস্থাপনা। বিশেষত বাস্কেটবল ইভেন্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সেমিফাইনাল ম্যাচে রেফারির একপক্ষীয় ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত এবং আয়োজক দলের সাথে তাদের সুস্পষ্ট যোগসাজশ প্রতিযোগিতার ন্যায্যতাকে সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে প্রকাশ্য মাঠে।

বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নজরে আনা হলে তিনি শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালককে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশের কোনো বাস্তব প্রতিফলন ঘটেনি। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রীয়তা পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক করে তোলে।

৬ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচেও একই ধরনের পক্ষপাতমূলক পরিবেশ বজায় থাকে। পরিস্থিতির প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়রা সম্মান রক্ষার্থে মাঠ ত্যাগ করতে চাইলে মেইন গেটে তালা লাগিয়ে তাদের জোরপূর্বক আটকে রাখা হয় এবং হেনস্থা করা হয়। এটি কেবল মানবিক মর্যাদার লঙ্ঘন নয়, বরং আইনের দৃষ্টিতে সুস্পষ্টভাবে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে একটি লিখিত আবেদন বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার কাছে জমা দেয়া হয়েছিল। সেই আবেদন সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হওয়া প্রমাণ করে যে আয়োজক কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিম্নলিখিত দাবিগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছি :

১. সকল অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের চিহ্নিত করা

২. মাঠে হুমকি ও খেলোয়াড় আটকের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা

৩. ভবিষ্যতে আয়োজক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন রেফারি প্যানেল গঠন করা

৪. খেলা আয়োজনের পূর্বে নিরাপত্তার বিষয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করা।

৫. প্রতিটি আসরে আয়োজক-নিরপেক্ষ কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল নিযুক্ত করা

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি আদর্শিক পরিবেশে যেখানে শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা হওয়ার কথা, সেখানে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ ও ক্রীড়া-দুর্নীতির এই চিত্র জাতির বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রকৃত মেধার বিকাশ তখনই সম্ভব হবে, যখন মাঠে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং প্রতিটি খেলোয়াড় নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে।

আমরা আশা করি, গণমাধ্যমের সচেতন দৃষ্টি এবং জনমতের চাপে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। অন্যথায় আমরা উচ্চতর কর্তৃপক্ষ ও আইনি প্রতিকারের পথে অগ্রসর হওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি