শিক্ষার্থী থেকে সফল উদ্যোক্তা হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী জামিউল

প্রথমে দিনাজপুরের লিচু ও বগুড়ার দই বিক্রি দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তিনি শীতের কাপড়, টি-শার্ট, শাহজাদপুরের ঘি, খেজুর গুড়, মধু, নওগাঁর বিখ্যাত প্যারা সন্দেশ সারাদেশে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। এছাড়াও রমজান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে ইফতার প্যাকেজও বিক্রি করছেন তিনি।

রাফিউল হুদা, হাবিপ্রবি

Location :

Dinajpur
উদ্যোক্তা জামিউল আওয়াল
উদ্যোক্তা জামিউল আওয়াল |নয়া দিগন্ত

শিক্ষাজীবনেই সফল উদ্যোক্তা হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী জামিউল আওয়াল। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন আর অন্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন এমনটাই ভাবনা ছিল তার।

জামিউল আওয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন আর অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির সেই ভাবনা থেকেই স্নাতক ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় ‘সদাই MART’ নামক একটি অনলাইনভিত্তিক পেইজের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা শুরু করেন জামিউল।

ব্যবসার শুরুতে সীমিত পুঁজি ও নানা প্রতিকূলতা থাকলেও তিনি দমে যাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলা ‘সদাই MART’ নামক পেইজকে কাজে লাগিয়ে পণ্যের প্রচার ও বিপণন শুরু করেন তিনি। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় ও দিনাজপুর শহর কেন্দ্রিক ব্যবসা শুরু করলেও ধীরে ধীরে তার ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে। শুরুতে পাঁচ হাজার টাকার পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে তার মূলধন প্রায় তিন লাখেরও বেশি।

প্রথমে দিনাজপুরের লিচু ও বগুড়ার দই বিক্রি দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তিনি শীতের কাপড়, টি-শার্ট, শাহজাদপুরের ঘি, খেজুর গুড়, মধু, নওগাঁর বিখ্যাত প্যারা সন্দেশ সারাদেশে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। এছাড়াও রমজান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে ইফতার প্যাকেজও বিক্রি করছেন তিনি।

জামিউল আওয়াল বলেন, ‘উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন অনেক আগে থেকেই ছিল। কিন্তু শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছেন। তবে নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে পরিশ্রম চালিয়ে গেছি। শুধু তাই নয় পড়াশোনার পাশাপাশি সময় ব্যবস্থাপনা করে ব্যবসা পরিচালনা করেছি। গ্রাহকদের আস্থা অর্জনই ছিল আমার মূল লক্ষ্য।’

বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন তরুণ কাজ করছেন। জামিউল মনে করেন, দেশের তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে এগিয়ে এলে বেকারত্ব অনেকাংশে কমে আসবে।

জামিউলের সহপাঠীরা জানান, তার এই সাফল্য তাদের অনুপ্রাণিত করছে। শিক্ষাজীবনেই এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। চাকরির পেছনে না ছুটে ইচ্ছা থাকলেই সেই ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে যে সফল উদ্যোক্তা হওয়া যায় জামিউল তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

শিক্ষাজীবন থেকেই উদ্যোক্তা হয়ে জামিউল আওয়াল এখন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। তার এই সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও দৃঢ় সংকল্প থাকলে সফলতা অর্জন অসম্ভব নয়।